
ব্যক্তিগত ঋণ বা চিকিৎসায় সরাসরি সহায়তা দেয় না আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন, কারণ জানালেন আহমাদুল্লাহ
ব্যক্তিগত ঋণ পরিশোধ বা চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য কেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেয় না—এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, প্রতিদিন ফাউন্ডেশনের কাছে অসংখ্য মানুষ সহায়তার আবেদন করেন। কারও ঋণের পরিমাণ কয়েক হাজার টাকা, আবার কারও ঋণ কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত। প্রতিটি আবেদনই গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাস্তবতা হলো, প্রতিদিন আসা আবেদনগুলোর মোট অর্থের পরিমাণ ফাউন্ডেশনের পুরো বছরের বাজেটের চেয়েও কয়েক গুণ বেশি।
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় বাজেট প্রায় ৯ লাখ কোটি টাকা হলেও দেশের সব মানুষের সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হয় না। সেখানে বছরে প্রায় ১০০ কোটি টাকার বাজেটের একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সব ধরনের ব্যক্তিগত সমস্যার সমাধান করা বাস্তবসম্মত নয়।
তিনি বলেন, ব্যক্তিগত ঋণ বা চিকিৎসার জন্য সরাসরি নগদ অর্থ বিতরণ শুরু করলে নীতিগত ও প্রশাসনিক নানা জটিলতা তৈরি হতে পারে। এতে সুপারিশ বা ব্যক্তিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে সহায়তা দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে এবং প্রকৃত অসহায় মানুষ বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।
তিনি জানান, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের লক্ষ্য শুধু তাৎক্ষণিক অর্থ সহায়তা নয়; বরং দাতাদের অনুদানের সর্বোচ্চ ও দীর্ঘমেয়াদি সুফল নিশ্চিত করা। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটি প্রকল্পভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা করে।
উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, গত বছর ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৬টি ট্রেডে দুই হাজার ১০০-এর বেশি নারী-পুরুষকে কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা প্রথম বছরেই সম্মিলিতভাবে প্রায় ৪২ কোটি টাকা আয় করেছেন। তার মতে, একই অর্থ সরাসরি বিতরণ করা হলে সাময়িক উপকার হতো, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন সম্ভব হতো না।
তিনি বলেন, “কাউকে প্রতিদিন মাছ কিনে দেওয়ার চেয়ে তাকে মাছ ধরা শিখিয়ে দেওয়াই আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের মূল দর্শন।”
শায়খ আহমাদুল্লাহ আরও বলেন, ঋণগ্রস্ত বা অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো অবশ্যই মহৎ কাজ। তবে এ ধরনের সহায়তা ব্যক্তিগত উদ্যোগ, মসজিদভিত্তিক বা এলাকাভিত্তিকভাবে পরিচালনা করা তুলনামূলক সহজ, কারণ এতে আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই কার্যকরভাবে করা সম্ভব।
ফাউন্ডেশনের প্রকল্পভিত্তিক কাজের বিষয়ে তিনি বলেন, স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রতিটি প্রকল্পের ব্যয়ের তথ্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি উন্মুক্ত আবেদন, মাঠপর্যায়ের যাচাই-বাছাই ও নির্ধারিত নীতিমালার মাধ্যমে উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়।
বিবৃতির শেষে শায়খ আহমাদুল্লাহ আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের প্রতি মানুষের আস্থা, দোয়া ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সবার নেক প্রচেষ্টা কবুলের জন্য দোয়া করেন।