বেড়ার জাতসাখিনি ভূমি অফিসে অনিয়মের অভিযোগ, ক্ষোভ সেবাগ্রহীতাদের
- আপলোডের সময় : Friday, September 11, 2026,

বেড়ার জাতসাখিনি ভূমি অফিসে অনিয়মের অভিযোগ, ক্ষোভ সেবাগ্রহীতাদের
আহমেদ শাকিল সুমন
ক্রাইম রিপোর্টার, আমার সকাল ২৪
পাবনা
পাবনার বেড়া উপজেলার জাতসাখিনি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব মো. রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন সেবাগ্রহীতার অভিযোগ, সরকারি নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জমির নামজারি (মিউটেশন) বাবদ সরকারি নির্ধারিত ফি ১ হাজার ১৫০ টাকা হলেও নায়েব মো. রফিকুল ইসলাম নামজারির কাজ সম্পন্ন করতে সর্বনিম্ন ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে নানা অজুহাতে আরও বেশি অর্থ আদায়ের অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী আজিজুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, তার জমির কাগজপত্রে বড় ধরনের কোনো ত্রুটি না থাকলেও নানা জটিলতার কথা বলে তার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য, “আমার কাছ থেকে নগদ ৩০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, নায়েব মো. রফিকুল ইসলাম জাতসাখিনি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যোগদানের পর গত দুই মাসে নামজারি ও অন্যান্য ভূমিসেবা দেওয়ার নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করেছেন। তাদের দাবি, শুধু নামজারি সংক্রান্ত কাজ থেকেই কয়েক লাখ টাকা ঘুষ আদায় করা হয়েছে।
এ ছাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে নায়েবের কথিত দালাল চক্র সক্রিয় থাকার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, এসব ব্যক্তির মাধ্যমে জমির মালিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। কাগজপত্রে সামান্য ত্রুটি থাকলেও তা দেখিয়ে অর্থ দাবি করা এবং টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ফাইল আটকে রাখার অভিযোগ রয়েছে।
ভূমি উন্নয়ন কর গ্রহণের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ করেছেন কয়েকজন সেবাগ্রহীতা। তাদের অভিযোগ, ভূমি অফিসে সেবা নিতে গিয়ে সরকারি নিয়মের পাশাপাশি অতিরিক্ত অর্থ প্রদানের চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত নায়েব মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে বেড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুরেন মায়িশা খান বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুনাল্ট চাকমা বলেন, কোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



















লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?
মন্তব্য করতে সাইন-আপ বা লগইনের প্রয়োজন নেই - সরাসরি আপনার মতামত লিখুন।