বরিশাল পোর্ট রোডের স্টল নিয়ে বিতর্ক, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার কল রেকর্ড ভাইরাল
- আপলোডের সময় : Tuesday, September 15, 2026,

বরিশাল পোর্ট রোডের স্টল নিয়ে বিতর্ক, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার কল রেকর্ড ভাইরাল
মো. হাফিজুর রহমান
বিশেষ প্রতিনিধি (বরিশাল বিভাগ), আমার সকাল ২৪
বরিশাল
বরিশাল নগরীর গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা পোর্ট রোডে সড়ক সম্প্রসারণের জন্য বিআইডব্লিউটিএর দোকানঘর উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ২৬টি দোকানঘরের মধ্যে একটি স্টল এখনো বহাল থাকায় বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি কথোপকথনের অডিও ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।
জানা গেছে, জনস্বার্থে সড়ক সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিআইডব্লিউটিএ পোর্ট রোড এলাকার ২৬টি দোকানঘর উচ্ছেদের উদ্যোগ নেয়। এর মধ্যে ১৪টি স্থায়ী ও ১২টি অস্থায়ী স্থাপনা ছিল। পরবর্তীতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে অধিকাংশ স্থাপনা অপসারণ করা হলেও একটি দোকানঘর এখনো বহাল রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বিআইডব্লিউটিএর ১৪টি স্থায়ী দোকানের বৈধ লিজের কাগজপত্র থাকলেও জনস্বার্থের কথা বিবেচনায় সেগুলোও উচ্ছেদ করা হয়েছে। অথচ একটি দোকানঘর উচ্ছেদ না করায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, ওই দোকানঘরের মালিক বরিশাল মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান বাপ্পী। বিআইডব্লিউটিএ থেকে দোকানটি লিজ নেওয়ার বৈধতা থাকলেও দ্বিতীয় তলা নির্মাণের অনুমতি নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি ড্রেন ও পাশের জমির মালিকের সম্পত্তির একটি অংশ দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগও উঠেছে।
এ বিষয়ে পাশের জমির মালিক আবু নাহিয়ানের সঙ্গে মিজানুর রহমান বাপ্পীর প্রায় ১৮ মিনিটের একটি কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে এটি ছড়িয়ে পড়ার পর দোকানঘরটি উচ্ছেদ না হওয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন, জনস্বার্থে বৈধ লিজের স্থাপনাও যদি উচ্ছেদ করা হয়ে থাকে, তাহলে একটি দোকানঘর কীভাবে এর বাইরে থাকছে।
সম্প্রতি বরিশাল জেলা প্রশাসক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জনস্বার্থে দোকানঘরটি দ্রুত উচ্ছেদ করে অপসারণের কথা বলেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে এরপরও দোকানঘরটি বহাল থাকায় সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অন্যদিকে, মিজানুর রহমান বাপ্পী আদালত থেকে স্থগিতাদেশ (স্টে অর্ডার) নিয়েছেন বলে জানা গেছে। ফলে আদালতের আদেশের কারণে দোকানঘরটি উচ্ছেদে আইনগত জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বিআইডব্লিউটিএর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, উচ্ছেদ কার্যক্রমে সবার জন্য একই ধরনের আইন প্রয়োগ করা না হলে জনস্বার্থে নেওয়া উদ্যোগটি প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
এ বিষয়ে মিজানুর রহমান বাপ্পীর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।



















লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?
মন্তব্য করতে সাইন-আপ বা লগইনের প্রয়োজন নেই - সরাসরি আপনার মতামত লিখুন।