বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে মাটিরাঙ্গায় আমনের সবুজে কৃষকের নতুন স্বপ্ন
- আপলোডের সময় : Sunday, September 6, 2026,

বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে মাটিরাঙ্গায় আমনের সবুজে কৃষকের নতুন স্বপ্ন
সাম্প্রতিক বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার কৃষকরা। উপজেলার মাঠজুড়ে এখন শোভা পাচ্ছে রোপা আমনের সবুজ চারা। সকালের শিশিরে ভেজা ধানগাছের সবুজে যেন ফুটে উঠেছে নতুন দিনের প্রত্যাশা।
কৃষি বিভাগের তৎপরতা ও সরকারি প্রণোদনায় বন্যার ক্ষতি সামলে এবার আমনের ভালো ফলনের প্রত্যাশায় এগোচ্ছেন সীমান্তঘেঁষা এই উপজেলার কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মাটিরাঙ্গায় মোট ৫ হাজার ৫১ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে উচ্চফলনশীল (উফশী) জাতের ধান চাষ হয়েছে ৪ হাজার ৫৪০ হেক্টর জমিতে। এসবের মধ্যে রয়েছে বিআর-১১, বিআর-১২, ব্রি ধান-৩৯, ৪০, ৪১, ৪৯, ৭০, ৭১, ৭২, ৭৫, ৭৬, ৮৭, ৯৩, ৯৪, ১০৩ ও ১০৬ এবং বিনা ধান-৭, ১২, ১৭ ও বিনা-২৬।
এ ছাড়া ২৯০ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড এবং ২২১ হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের ধান আবাদ করা হয়েছে। হাইব্রিড জাতের মধ্যে ধানীগোল্ড ৮৫ হেক্টর, হীরা-২ ৮০ হেক্টর, হীরা-৬ ৫০ হেক্টর, হীরা-৮ ৪০ হেক্টর এবং তেজগোল ৩৫ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে।
স্থানীয় জাতের মধ্যে কালিজিরা ৮৫ হেক্টর, বিন্নি ৭০ হেক্টর, চিনিগুঁড়া ৩৬ হেক্টর এবং পাইজাম ৩০ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছে।
প্রণোদনায় ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা
বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে আমন উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে সরকার। কৃষি প্রণোদনা ও পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় ১ হাজার ১০০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে বিনামূল্যে ৫ কেজি করে উফশী আমন বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার বিতরণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন সহায়তার অংশ হিসেবে আরও ৫০০ কৃষককে ৫ কেজি করে আমন বীজ দেওয়া হয়েছে।
খেদাছড়া এলাকার কৃষক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বন্যায় আমাদের যে ক্ষতি হয়েছিল, তাতে আমরা প্রায় আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম। তবে সরকারি সার ও বীজ পাওয়ার পর নতুন করে চারা রোপণ করেছি। এখন মাঠের সবুজ চারা দেখে মন ভরে যায়।’
কৃষক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘কৃষি অফিসের সঠিক পরামর্শ আর ভালো বীজ পাওয়ায় ক্ষেত বেশ চমৎকার রূপ নিয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আশা করছি বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে ভালো ফলন পাব।’
মাঠ পর্যায়ের তদারকি নিয়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দেবাশীষ চাকমা বলেন, ‘বন্যা-পরবর্তী সময়ে কৃষকদের ঘুরে দাঁড় করাতে আমরা মাঠে নিরবচ্ছিন্ন পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। সার প্রয়োগ ও রোগবালাই দমনে কৃষকদের সরাসরি নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।’
মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বন্যার পর কৃষকরা যেন ভেঙে না পড়েন, সেজন্য আমরা দ্রুত পুনর্বাসন ও প্রণোদনা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছি। বিআর, ব্রি ধান, বিনা ধান ও জনপ্রিয় হাইব্রিড জাতের সুষম ব্যবহারের কারণে জমিতে এবার ভালো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, আবহাওয়া শেষ পর্যন্ত অনুকূলে থাকলে মাটিরাঙ্গায় আমনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ভালো ফলন হবে বলে তাঁরা আশাবাদী।



















লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?
মন্তব্য করতে সাইন-আপ বা লগইনের প্রয়োজন নেই - সরাসরি আপনার মতামত লিখুন।