বগুড়ায় বিএডিসি ও বিসিআইসির সার গোডাউন আকস্মিক পরিদর্শন করলেন প্রতিমন্ত্রী
- আপলোডের সময় : Thursday, August 27, 2026,

বগুড়ায় বিএডিসি ও বিসিআইসির সার গোডাউন আকস্মিক পরিদর্শন করলেন প্রতিমন্ত্রী
মো. রবিউল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার
জাতীয় দৈনিক আমার সকাল ২৪
বগুড়ায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সার গোডাউন ও বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) বাফার গোডাউন আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় গোডাউন দুটি পরিদর্শন শেষে তিনি সার সরবরাহ ও মজুত পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সারের সার্বিক তদারকি, উত্তোলন এবং ডিলারদের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের গঠিত এ কমিটিতে সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এবং তিনি নিজে রয়েছেন। কমিটি ইতোমধ্যে একাধিক বৈঠক করে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি বিবেচনায় বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ডিলার পরিবর্তন নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুজব প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পুরোনো ডিলারদের সরিয়ে নতুন ডিলার নিয়োগ করা হচ্ছে—এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ায় ডিলারদের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। তবে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিসিআইসি ও বিএডিসির বর্তমান মূল ও খুচরা ডিলাররাই কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
তিনি আরও বলেন, যেসব ডিলার সারের ডিও (ডেলিভারি অর্ডার) নিয়ে তা উত্তোলন করছেন না কিংবা উত্তোলন করে গোডাউনে রেখে খুচরা বাজারে বিক্রি করছেন না, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ডিলার সমিতির শীর্ষ নেতারাও এ পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন বলে জানান তিনি।
কৃষকদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বগুড়াসহ সারাদেশে চাহিদার তুলনায় প্রায় দেড় গুণ বেশি ইউরিয়া ও নন-ইউরিয়া সার মজুত রয়েছে। বগুড়ায় সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত সার সরবরাহ রয়েছে।
তিনি বলেন, বিশেষ করে আলু চাষিরা আগাম সার কিনে বাড়িতে মজুত করছেন। নভেম্বর-ডিসেম্বরের সার এখনই কিনে মজুত করলে বাজারে কৃত্রিম চাপ তৈরি হতে পারে এবং সারের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রতি জেলায় আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অক্টোবর ও নভেম্বর মাসের চাহিদা অনুযায়ী সার পৌঁছে দেওয়া হবে। তাই কৃষকদের অযথা বাড়তি দামে আগাম সার না কেনার অনুরোধ জানান তিনি।
ডিলারদের কমিশন বৃদ্ধির দাবির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০০৮-০৯ সালের পর থেকে সার বিক্রিতে কমিশন বাড়েনি। পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষি মন্ত্রণালয় কমিশন বৃদ্ধির যে প্রস্তাব করেছে, তাতে প্রধানমন্ত্রী নীতিগত সম্মতি দিয়েছেন। অর্থ বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত কমিশন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে বলেও জানান তিনি।
গোডাউন পরিদর্শনকালে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বগুড়ার উপপরিচালক সোহেল মো. শামসুদ্দীন ফিরোজ, অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মো. মাহফুজ আলমসহ কৃষি বিভাগ ও বাফার গোডাউনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।









