বগুড়ায় নিশিন্দারা ইউনিয়ন পরিষদে যুবক হত্যার অভিযোগ, মামলায় নতুন প্রশ্ন
- আপলোডের সময় : Saturday, October 3, 2026,

বগুড়ায় নিশিন্দারা ইউনিয়ন পরিষদে যুবক হত্যার অভিযোগ, মামলায় নতুন প্রশ্ন
ক্রাইম রিপোর্টার: মোঃ আতিকুর রহমান
বগুড়া
বগুড়ার নিশিন্দারা ইউনিয়ন পরিষদে চোর সন্দেহে শামিম নামে এক যুবককে আটক করে মারধরের পর হত্যার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলা নিয়ে নতুন করে নানা প্রশ্ন ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি ও তাঁর দুই ছেলের সম্পৃক্ততার অভিযোগে তাঁদেরসহ মোট ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত এ বি এম শাফিকুর রহমানের পরিবারের দাবি, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তিনি বা তাঁর দুই ছেলে জড়িত নন। তাঁদের ফাঁসাতে পরিকল্পিতভাবে মামলায় আসামি করা হয়েছে।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে বগুড়া সদর উপজেলার নিশিন্দারা ইউনিয়নের নুনগোলা ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন এলাকায় চোর সন্দেহে স্থানীয় কয়েকজন শামিম নামে ওই যুবককে আটক করেন। পরে তাঁকে মারধর এবং পায়ের রগ কেটে হত্যার অভিযোগ ওঠে।
পরিবারের দাবি, ঘটনার রাতে আনু ও মিলনসহ স্থানীয় কয়েকজন আনুমানিক রাত আড়াইটার দিকে নিশিন্দারা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এ বি এম শাফিকুর রহমানকে ফোন করে বিষয়টি জানান। তাঁরা গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে আটক যুবককে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করার অনুরোধ করেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, শাফিকুর রহমান তখন গ্রাম পুলিশ গোবিন্দকে ফোন করে ঘটনাস্থলে যেতে বলেন। তবে গোবিন্দ ইউনিয়ন পরিষদে একা থাকায় ঘটনাস্থলে যাওয়া সম্ভব নয় বলে জানান।
এরপর আনু ও মিলনের পরামর্শে শাফিকুর রহমান তাঁর দুই ছেলেকে ঘটনাস্থলে পাঠান বলে দাবি পরিবারের। তাঁদের ভাষ্য, তাঁর দুই ছেলে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে গিয়ে শামিমকে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসেন এবং গ্রাম পুলিশের জিম্মায় রেখে বাসায় ফিরে যান।
পরিবারের দাবি, পরে ভোরে তাঁরা জানতে পারেন, চোর সন্দেহে আটক ওই যুবককে রাতভর মারধর করা হয়েছে এবং তাঁর পায়ের রগ কেটে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁদের বাবা ও দুই ভাইয়ের নামেও মামলা হয়েছে জানতে পেরে তাঁরা বিস্মিত হন।
পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর মেয়ে দাবি করেন, গত ২৯ আগস্ট মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তাঁর বাবা গুরুতর আহত হন। কণ্ঠায় আঘাত পাওয়ার পর তিনি চিকিৎসাধীন ও শয্যাশায়ী ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি। এ সংক্রান্ত চিকিৎসার কাগজপত্র ও প্রেসক্রিপশন তাঁদের কাছে রয়েছে বলে জানান পরিবারের সদস্যরা।
পরিবারের অভিযোগ, প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে এ বি এম শাফিকুর রহমান ও তাঁর দুই ছেলেকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এবং মামলার তদন্তের চূড়ান্ত ফল এখনো পাওয়া যায়নি।
শামিমকে কারা মারধর করেছে, ইউনিয়ন পরিষদে নেওয়ার পর তাঁর সঙ্গে কী ঘটেছিল এবং হত্যাকাণ্ডে মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের প্রকৃত সম্পৃক্ততা ছিল কি না—এসব বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
পরিবারের দাবি, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক। একই সঙ্গে নির্দোষ কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।



















লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?
মন্তব্য করতে সাইন-আপ বা লগইনের প্রয়োজন নেই - সরাসরি আপনার মতামত লিখুন।