ফুটবলের সবুজ গালিচা থেকে সফল ব্যবসায়ী
- আপলোডের সময় : Tuesday, August 25, 2026,

ফুটবলের সবুজ গালিচা থেকে সফল ব্যবসায়ী
খেলোয়াড়ি জীবনে খ্যাতি, অর্থ ও সাফল্য অর্জনের পর অনেক ফুটবলারই অবসরের পর পা রাখেন ব্যবসার জগতে। কেউ হয়েছেন ক্লাবের মালিক, কেউ গড়েছেন রেস্টুরেন্ট বা বিনোদন প্রতিষ্ঠান, আবার কেউ বিনিয়োগ করেছেন প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব শিল্পে। সফল উদ্যোক্তা হিসেবে আলোচনায় আসা এমন সাত সাবেক ফুটবল তারকার গল্প তুলে ধরা হলো।
ডেভিড বেকহাম
মাঠে দুর্দান্ত ফ্রি-কিকের জন্য বিখ্যাত ডেভিড বেকহাম অবসরের পর ব্যবসায়ও সফলতা পেয়েছেন। তিনি ইন্টার মায়ামির সহ-মালিক এবং সালফোর্ড সিটিরও শেয়ারধারী। অ্যাডিডাস, হিউগো বসসহ বিভিন্ন বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডের সঙ্গে রয়েছে তার দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি। স্ত্রী ভিক্টোরিয়া ও ম্যানেজার সাইমন ফুলারের সঙ্গে গড়ে তোলা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ছাড়াও তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘স্টুডিও ৯৯’ থেকে তৈরি হয়েছে জনপ্রিয় প্রামাণ্যচিত্র। স্বাস্থ্যপণ্য ব্যবসাতেও বিনিয়োগ করেছেন সাবেক এই ইংলিশ অধিনায়ক।
লুকাস পোডোলস্কি
২০১৪ সালে জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য লুকাস পোডোলস্কি অবসরের আগেই ব্যবসায় মনোযোগ দেন। ২০১৭ সালে কোলনে ‘আইসক্রিম ইউনাইটেড’ চালুর পর ২০১৮ সালে শুরু করেন ‘মাঙ্গাল ডোনার’ কাবাব চেইন। বর্তমানে জার্মানির বিভিন্ন শহরে এর ৩০টির বেশি শাখা রয়েছে। সাবেক সতীর্থ ম্যাটস হামেলসের সঙ্গে ‘বলার লিগ’ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি নিজের শৈশবের ক্লাব গোর্নিক জাবরজের বড় অংশের মালিকও হয়েছেন তিনি।
লুই সাহা
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, ফুলহ্যাম ও এভারটনের সাবেক ফরাসি ফরোয়ার্ড লুই সাহা ফুটবল ছাড়ার পর প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসায় নামেন। ২০১৭ সালে তিনি চালু করেন ‘অ্যাক্সিসস্টার্স’ নামের একটি ডিজিটাল ক্যারিয়ার ও ব্র্যান্ড ম্যানেজমেন্ট প্ল্যাটফর্ম। প্রতিষ্ঠানটি ক্রীড়াবিদ ও বিনোদন জগতের তারকাদের ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি অর্থব্যবস্থাপনা, আইনি সহায়তা ও অবসরোত্তর ক্যারিয়ার গঠনে কাজ করে।
মাথিউ ফ্ল্যামিনি
আর্সেনাল ও এসি মিলানের সাবেক মিডফিল্ডার মাথিউ ফ্ল্যামিনি ব্যবসায়িক সাফল্যের কারণে আলাদা পরিচিতি পেয়েছেন। পরিবেশবান্ধব বায়োটেক প্রতিষ্ঠান ‘জিএফ বায়োকেমিক্যালস’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী তিনি। উদ্ভিদবর্জ্য থেকে পেট্রোলিয়ামের বিকল্প উপাদান তৈরির প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করে প্রতিষ্ঠানটি। পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতেও কাজ করেছেন ফ্ল্যামিনি।
মাইকেল ওয়েন
ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা ও ব্যালন ডি’অরজয়ী মাইকেল ওয়েন ফুটবলের পাশাপাশি ঘোড়দৌড়ের জগতেও সফল। মাত্র ২২ বছর বয়সে চেশায়ারে একটি ডেইরি ফার্ম কিনে সেটিকে রেসঘোড়া প্রশিক্ষণ ও প্রজননকেন্দ্রে রূপান্তর করেন। ‘ম্যানর হাউস স্টেবলস’ থেকে উঠে এসেছে একাধিক সফল রেসঘোড়া। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পৃষ্ঠপোষকতা ও টেলিভিশন বিশ্লেষক হিসেবেও আয় করেছেন তিনি।
জেরার্ড পিকে
বার্সেলোনা ও স্পেনের হয়ে অসংখ্য শিরোপা জেতা জেরার্ড পিকে অবসরের পর ক্রীড়া বিনোদন ব্যবসায় বড় সাফল্য পেয়েছেন। ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘কসমস গ্লোবাল হোল্ডিং’। এফসি অ্যান্ডোরার মালিকানা নেওয়ার পাশাপাশি ‘কিংস লিগ’ ও ‘কুইন্স লিগ’ প্রতিষ্ঠা করে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসেন তিনি। প্রযুক্তি, ক্রীড়া ও পানীয় ব্যবসাতেও বিনিয়োগ রয়েছে পিকের।
গ্যারি নেভিল
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক ডিফেন্ডার গ্যারি নেভিল ফুটবল ছাড়ার পর ব্যবসার বিভিন্ন খাতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। রিয়েল এস্টেট, আতিথেয়তা, শিক্ষা ও সংবাদমাধ্যম—বিভিন্ন খাতে রয়েছে তার বিনিয়োগ। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের কাছে ‘হোটেল ফুটবল’সহ একাধিক ব্যবসায় যুক্ত তিনি। তরুণদের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি টেলিভিশনের বিনিয়োগভিত্তিক অনুষ্ঠানেও অংশ নিয়েছেন নেভিল।
ফুটবল তাই শুধু মাঠের সাফল্যের গল্প নয়। বুট তুলে রাখার পরও দূরদর্শী বিনিয়োগ, পরিচিতি ও উদ্যোক্তা হওয়ার দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে এই তারকারা প্রমাণ করেছেন—ফুটবল ক্যারিয়ার শেষ হলেও সাফল্যের পথ শেষ হয় না।











লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?
মন্তব্য করতে সাইন-আপ বা লগইনের প্রয়োজন নেই - সরাসরি আপনার মতামত লিখুন।