ফরিদপুরে শিশুর মৃত্যু: ‘টাকা নয়, বিচার চান বাবা’
- আপলোডের সময় : Friday, August 14, 2026,

ফরিদপুরে শিশুর মৃত্যু: ‘টাকা নয়, বিচার চান বাবা’
ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় স্কুলে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় জান্নাতি আক্তার (৫) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা না করে স্থানীয়ভাবে চার লাখ টাকার বিনিময়ে মীমাংসা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে নিহত শিশুটির বাবা ইলিয়াস মুন্সি জানিয়েছেন, তিনি কোনো টাকা চান না; মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ী ব্যক্তির বিচার চান।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের বড়বাংরাইল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত জান্নাতি আক্তার বড়বাংরাইল পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা ইলিয়াস মুন্সির মেয়ে। সে বড়বাংরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে কয়েকজন সহপাঠীর সঙ্গে স্কুলে যাওয়ার পথে একই গ্রামের সেলিম মুন্সির ছেলে সজীব মুন্সির দ্রুতগতির মোটরসাইকেল পেছন থেকে জান্নাতিকে ধাক্কা দেয়। এতে সে গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ফুলবাড়িয়া বাজারে নিয়ে যান। পরে সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শিশুটির মৃত্যুর পর থানায় মামলা না করে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সোনাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনির মোল্লার উদ্যোগে মোটরসাইকেলচালকের পক্ষের সঙ্গে নিহত শিশুর পরিবারের চার লাখ টাকায় সমঝোতা হয়।
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সাবেক চেয়ারম্যান মনির মোল্লা বলেন, “দুই পক্ষই গরিব মানুষ। তাই মামলার দিকে না গিয়ে চার লাখ টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি মীমাংসা করেছি।”
থানায় না গিয়ে এমন মৃত্যুর ঘটনা স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা যায় কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেই এ উদ্যোগ নিয়েছি। আমি উদ্যোগ না নিলে শিশুটির পরিবার চার লাখ টাকাও পেত না এবং তাদের দীর্ঘদিন থানা-পুলিশের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হতো।”
তবে নিহত জান্নাতির বাবা ইলিয়াস মুন্সি বলেন, “আমাদের এলাকায় গ্রাম্য প্রথা অনুযায়ী চেয়ারম্যান ও মাতব্বরদের কথা শুনতে হয়। এজন্য স্থানীয়রা বসে চার লাখ টাকার একটি সমঝোতার কথা বলেছে। কিন্তু আমি প্রশাসনের কাছে সঠিক বিচার চাই। আমি কোনো টাকা-পয়সা চাই না, আমি আমার মেয়ের মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তির বিচার চাই।”
নিহতের চাচা আব্দুর রহমান জানান, তাদের ডেকে নিয়ে চেয়ারম্যানের মাধ্যমে একটি সমাধান করা হয়েছে এবং তারা সেই প্রক্রিয়াতেই এগোচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা এ দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে সড়কে গতি নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সালথা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রজিৎ মল্লিক বলেন, “পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এ ঘটনায় থানায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”










