
জিহাদুল ইসলাম
বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা
প্রথম পর্যায়ে ৩৭ হাজারের বেশি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
সোমবার (৯ মার্চ) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১০টায় রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তি সংলগ্ন) এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
নারীপ্রধান পরিবারগুলোকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করছে সরকার। পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে দেশের ১৩টি জেলার সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে এ কার্ড দেওয়া হবে। এতে মোট ৩৭ হাজার ৫৬৪টি নারীপ্রধান পরিবার এই সুবিধা পাবে।
মন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। পরিবারে নারীকে প্রধান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তার নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা সহজে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
প্রতিটি কার্ডের মাধ্যমে একটি পরিবারের সর্বোচ্চ পাঁচজন সদস্য সুবিধা পাবেন। তবে যৌথ বা একান্নবর্তী পরিবারে সদস্য সংখ্যা পাঁচের বেশি হলে আনুপাতিক হারে একাধিক কার্ড দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
পাইলটিং পর্যায়ে নির্বাচিত উপকারভোগীরা মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা পাবেন। ভবিষ্যতে সমমূল্যের খাদ্যপণ্য সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করবে সরকার।
মন্ত্রী আরও জানান, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য নির্বাচিত নারী গৃহপ্রধান অন্য কোনো সরকারি ভাতা বা সহায়তা পেলে সেক্ষেত্রে সেই সুবিধা বাতিল হিসেবে গণ্য হবে। তবে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা তাদের প্রাপ্য ভাতা গ্রহণ অব্যাহত রাখতে পারবেন।
উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়। ওয়ার্ড কমিটির সদস্যরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা, সদস্যসংখ্যা, শিক্ষা, বাসস্থান, গৃহস্থালি সামগ্রী ও রেমিট্যান্স প্রবাহসহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন। পরে সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রক্সি মিনস টেস্ট পদ্ধতিতে পরিবারগুলোকে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়।
প্রাথমিকভাবে ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হলেও যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৪টি পরিবারকে ভাতার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি নারীপ্রধান পরিবারকে একটি স্মার্ট কার্ড দেওয়া হবে। স্পর্শবিহীন (কন্টাক্টলেস) চিপ, কিউআর কোড ও এনএফসি প্রযুক্তি সম্বলিত এই কার্ড নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী হবে।
এছাড়া যেসব পরিবারের সদস্য সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত, পেনশনভোগী, বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা বাণিজ্যিক লাইসেন্স রয়েছে, বিলাসবহুল সম্পদ যেমন গাড়ি বা এসি রয়েছে, কিংবা পাঁচ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র আছে—সেসব পরিবার এই ভাতার জন্য অযোগ্য বিবেচিত হবে।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের ভাতা জি-টু-পি (গভর্নমেন্ট টু পারসন) পদ্ধতিতে সরাসরি উপকারভোগী নারীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে। এতে কোনো বিলম্ব বা মধ্যস্থতা ছাড়াই উপকারভোগীরা ঘরে বসেই সরকারি সহায়তা পাবেন।