পালংখালী সীমান্তে আরাকান আর্মির হাতে অপহৃত ৪ জেলের ২ বছরেও সন্ধান নেই
- আপলোডের সময় : Tuesday, September 1, 2026,

পালংখালী সীমান্তে আরাকান আর্মির হাতে অপহৃত ৪ জেলের ২ বছরেও সন্ধান নেই
মো. সুলতান মাহমুদ রিদুয়ান
উখিয়া প্রতিনিধি, কক্সবাজার
কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালী সীমান্তের মেদাই খাল থেকে মাছ ধরতে গিয়ে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির হাতে অপহৃত পাঁচ জেলের মধ্যে একজনের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধারের পর প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেছে। তবে এখনো সন্ধান মেলেনি বাকি চার জেলের। তারা জীবিত নাকি মৃত—এমন কোনো নিশ্চিত তথ্যও না পাওয়ায় চরম উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন নিখোঁজ জেলেদের স্বজনরা।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, ২০২৪ সালের ১৪ নভেম্বর জীবন-জীবিকার তাগিদে পালংখালী ইউনিয়নের আনজুমান পাড়া সীমান্তসংলগ্ন মেদাই খালে মাছ ধরতে যান পাঁচ জেলে। এ সময় মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য নিয়ন্ত্রণকারী সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সদস্যরা তাদের আটক করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অপহৃত পাঁচ জেলের মধ্যে ছৈয়দুল বশরের গুলিবিদ্ধ মরদেহ আটকের দুই দিন পর নাফ নদীর উপশাখা মেদাই খাল থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে উখিয়া থানা পুলিশ মরদেহটি তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে। তবে বাকি চার জেলের বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজ চার জেলের মধ্যে রয়েছেন পালংখালী ইউনিয়নের সীমান্তঘেঁষা আনজুমান পাড়া এলাকার জিয়াবুলের ছেলে সাইফুল ইসলাম, নুর মোহাম্মদের ছেলে লুৎফর রহমান (২২), মঞ্জুর আলমের ছেলে মো. ইউসুফ এবং আব্দুল্লাহর ছেলে ইউসুফ জালাল।
নিখোঁজ জেলেদের পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও প্রিয়জনদের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় প্রতিটি দিনই তাদের উৎকণ্ঠার মধ্যে কাটছে। স্বজনরা এখনো আশায় বুক বেঁধে আছেন—তাদের প্রিয়জনরা জীবিত থাকলে একদিন ফিরে আসবেন।
এদিকে সীমান্তবর্তী এলাকায় এ ধরনের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও উদ্বেগ বেড়েছে। সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় মাছ ধরা ও জীবিকার প্রয়োজনে যাতায়াতকারী জেলেরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “দুই বছর আগে আনজুমান পাড়ার পাঁচ জেলে খালে মাছ ধরতে গেলে আরাকান আর্মির সদস্যরা তাদের আটক করে নিয়ে যায়। দুই দিন পর একজনের মরদেহ পাওয়া যায়। অনেক চেষ্টা করেও বাকি চারজনকে ফেরত আনা সম্ভব হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, রাখাইন রাজ্য মিয়ানমার সরকারের নিয়ন্ত্রণে না থাকায় বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যে প্রচলিত প্রক্রিয়ায় পতাকা বৈঠক করাও সম্ভব হচ্ছে না। নিখোঁজ চার জেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে তাদের স্বজনরা কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক, উখিয়ার ৬৪ বিজিবি ও টেকনাফের ২ বিজিবির কার্যালয়ে আবেদন করেছেন বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেন, আরাকান আর্মির হাতে আটক চার জেলে এখনো ফিরে আসেননি—বিষয়টি প্রশাসনের জানা রয়েছে। সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বাহিনী কাজ করছে। নিখোঁজদের পরিবারের পক্ষ থেকে সাধারণ ডায়েরির (জিডি) কপি বিজিবি ও কোস্ট গার্ডের কাছে দিলে বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
ফিরবে কি স্বজনরা, অপেক্ষায় চার পরিবার
দুই বছর ধরে নিখোঁজ স্বজনদের ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছেন চার পরিবারের সদস্যরা। তাদের কাছে এখন একটাই প্রশ্ন—নিখোঁজ জেলেরা কোথায়, কী অবস্থায় আছেন এবং আদৌ কি তারা ফিরতে পারবেন পরিবারের কাছে?
এই দীর্ঘ অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে নিখোঁজ চার জেলের অবস্থান শনাক্ত, সন্ধান ও দেশে ফিরিয়ে আনতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাদের স্বজনরা।











লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?
মন্তব্য করতে সাইন-আপ বা লগইনের প্রয়োজন নেই - সরাসরি আপনার মতামত লিখুন।