পার্বতীপুরে জমি দখল নিয়ে বিরোধ, বাগানের গাছ কাটার অভিযোগে থানায় এজাহার
- আপলোডের সময় : Tuesday, September 8, 2026,

পার্বতীপুরে জমি দখল নিয়ে বিরোধ, বাগানের গাছ কাটার অভিযোগে থানায় এজাহার
শাহিনুর রহমান | পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে জমি দখল নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বাগানের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ফেলা, ক্ষতিসাধন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে পার্বতীপুর মডেল থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন ভুক্তভোগী হারুন অর রশিদ।
ঘটনাটি উপজেলার হাবড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ মরনাই (শিয়ালকোট) গ্রামে ঘটেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, পার্বতীপুর উপজেলার আরাজী দেবীপুর এলাকায় সিএস ৫৯৬ ও ৫৯৭ এবং এসএ ৬১৬ ও ৬১৭ খতিয়ানের ৪০০৭, ৪০০৯, ৩০১১ ও ৩০১২ দাগে থাকা ৯৪, ৬৪, ৯৫ ও ৫৭ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে দিনাজপুরের নির্বাহী আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারায় এম.আর-১১৪ নম্বর মামলা এবং পার্বতীপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে সি.আর-২৬৩ নম্বর মামলা চলমান রয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী হারুন অর রশিদ অভিযোগ করেন, মামলাগুলো চলমান থাকা অবস্থায় গত ২৫ জুলাই ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে অভিযুক্তরা আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে লাঠি, হাসুয়া, কুড়াল, দা, করাত ও লোহার রডসহ ঘটনাস্থলে প্রবেশ করেন। পরে তাদের মধ্যে একজনের নির্দেশে অন্যরা বাগানে থাকা বিভিন্ন গাছ কাটতে শুরু করেন।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, অভিযুক্তরা বাগানে রোপণ করা হাড়িভাঙ্গা আমগাছ, লিচুগাছসহ বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছ কেটে ফেলেন। এতে আনুমানিক ৬০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
গাছ কাটার সময় বাধা দিলে অভিযুক্তরা হাসুয়া, কুড়াল ও লোহার রড প্রদর্শন করে ভয়ভীতি দেখান এবং বাড়াবাড়ি করলে মারধর ও লাশ গুম করার হুমকি দেন বলেও এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি নালিশি জমিতে রোপণ করা ধানের চারা নষ্ট করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
হারুন অর রশিদ আরও বলেন, ঘটনার সময় অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ড মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে পার্বতীপুর থানার ভবারীপুর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যান। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি মালামাল জব্দ করেছে বলেও এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হারুন অর রশিদ তার ভোগদখলে থাকা ধান রোপণ করা জমিতে সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করছেন। তিনি দাবি করেন, জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ও মামলা চলমান থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি ওই জমি ভোগদখল করে চাষাবাদ করে আসছেন। বর্তমানে জমিতে ধান রোপণ করা হয়েছে এবং তিনি নিয়মিত পরিচর্যা করছেন।
তবে প্রতিপক্ষের দাবি, বিরোধপূর্ণ ওই জমিগুলো তারাও দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন। এ সময় তারা তাদের দাবির পক্ষে কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
ঘটনার বিষয়ে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে জানানো হবে।
উল্লেখ্য, এজাহারে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্তাধীন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।



















লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?
মন্তব্য করতে সাইন-আপ বা লগইনের প্রয়োজন নেই - সরাসরি আপনার মতামত লিখুন।