পাবনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাফল্যের দাবি, বিদায় নিচ্ছেন ডিবি ওসি রাশিদুল ইসলাম
- আপলোডের সময় : Wednesday, September 16, 2026,

পাবনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাফল্যের দাবি, বিদায় নিচ্ছেন ডিবি ওসি রাশিদুল ইসলাম
আহমেদ শাকিল সুমন
ক্রাইম রিপোর্টার, আমার সকাল ২৪
পাবনা
পাবনা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ইনচার্জ (ওসি) মো. রাশিদুল ইসলাম দায়িত্ব পালন শেষে জেলা থেকে বিদায় নিচ্ছেন। দায়িত্বকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদকবিরোধী অভিযান ও অপরাধীদের গ্রেপ্তারে তার নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের একাধিক অভিযান আলোচনায় এসেছে।
৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার ও পুলিশ সদস্যদের কর্মতৎপরতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে দায়িত্ব পালন করেন রাশিদুল ইসলাম। এ সময় ডিবি পুলিশ চোর-ডাকাত চক্র, অবৈধ অস্ত্রধারী ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, রাশিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে পাবনা জেলা থেকে অন্তত ৮০টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ কার্তুজ, শটগানের শেল এবং বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
পাবনা সদরের আলোচিত হোসেন আলী হত্যা মামলার তদন্তের সূত্র ধরে তোতা মিয়ার বসতবাড়ি ও পুকুরে অভিযান চালিয়ে বিদেশি রিভলভার, রাইফেল, ওয়ান শুটার গানসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের কথাও জানায় ডিবি পুলিশ।
এ ছাড়া ঈশ্বরদীতে সংঘর্ষের সময় প্রকাশ্যে পিস্তল প্রদর্শনের অভিযোগে মো. তুষার হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে সিরাজগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাটি খুঁড়ে একটি লোডেড পিস্তল ও দুই রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধারের দাবি করে পুলিশ।
ঈশ্বরদী ও পাবনা সদরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ‘মেড ইন পাকিস্তান’ লেখা রিভলভার, বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনাও ঘটে।
সন্ত্রাস ও মাদকবিরোধী অভিযান
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডিবি পুলিশের অভিযানে বিভিন্ন মামলার আসামি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ছাত্র হত্যা মামলার অন্যতম আসামি কামিল হোসেনসহ ৭০ জনের বেশি ব্যক্তিকে বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মাদকবিরোধী অভিযানেও ডিবি পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব অভিযানে ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সহকর্মী ও স্থানীয় কয়েকজনের মতে, দায়িত্ব পালনের সময় রাশিদুল ইসলাম কঠিন পরিস্থিতিতে ডিবি পুলিশের কার্যক্রম সক্রিয় রাখতে ভূমিকা রেখেছেন। তবে তার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযান ও সাফল্যের পরিসংখ্যানের বিষয়ে পুলিশের সংশ্লিষ্ট নথি ও তথ্যই চূড়ান্ত ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হবে।
দায়িত্ব শেষে বিদায় নেওয়ার সময় সহকর্মীরা তার ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সাফল্য কামনা করেছেন।



















লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?
মন্তব্য করতে সাইন-আপ বা লগইনের প্রয়োজন নেই - সরাসরি আপনার মতামত লিখুন।