
পাট অধিদপ্তরের সব কার্যালয় হবে শতভাগ তামাকমুক্ত
ধূমপান ও তামাকমুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে পাট অধিদপ্তরের অধীন দেশের সব কার্যালয়কে ‘শতভাগ তামাকমুক্ত এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করার অঙ্গীকার করেছেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) সৈয়দ মো. নূরুল বাসির।
তিনি জানিয়েছেন, সব কার্যালয়ের দৃশ্যমান স্থানে ‘নো-স্মোকিং’ সাইনেজ স্থাপন করা হবে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় অফিস আদেশ জারি করা হবে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) পাট অধিদপ্তরের সভাকক্ষে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন (সংশোধন) ২০২৬ অনুযায়ী পাট অধিদপ্তরের অফিসসমূহে শতভাগ তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
সৈয়দ মো. নূরুল বাসির বলেন, “পাট অধিদপ্তরের অধীনস্থ সব অফিসকে তামাকমুক্ত এলাকা হিসেবে ঘোষণা দিয়ে অফিস আদেশ জারি করা হবে। অফিসে তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে এবং দৃশ্যমান স্থানে তামাকবিরোধী সাইনেজ স্থাপন করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, তামাকের কোনো ইতিবাচক দিক নেই। এটি শুধু ব্যবহারকারীর নয়, পরিবার, সহকর্মী ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ক্ষতিকর। কর্মস্থলে ধূমপান নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।
সভায় ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশে বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ তামাক ব্যবহার করে। তামাকজনিত রোগে প্রতি বছর প্রায় দুই লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। পাশাপাশি প্রায় চার কোটি অধূমপায়ী পরোক্ষ ধূমপানের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন।
সংস্থাটি আরও জানায়, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহার ও উৎপাদনের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। একই সময়ে সরকার তামাক খাত থেকে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় করেছে।
মতবিনিময় সভায় ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য অর্জনে সরকারি-বেসরকারি অফিসসহ সব জনসমাগমস্থলকে শতভাগ ধূমপানমুক্ত রাখা জরুরি।
তিনি বলেন, তামাক ব্যবহার হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যানসার ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের অন্যতম প্রধান ঝুঁকির কারণ। ধূমপান ছাড়ার পর শরীরে দ্রুত ইতিবাচক পরিবর্তন শুরু হয় এবং কয়েক বছরের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে।
তিনি তামাকমুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে দেশের প্রতিটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।