পাকিস্তান-তুরস্ক-সৌদি নিরাপত্তা চুক্তি নিয়ে ইরানের প্রতিক্রিয়া
- আপলোডের সময় : Monday, August 10, 2026,

পাকিস্তান-তুরস্ক-সৌদি নিরাপত্তা চুক্তি নিয়ে ইরানের প্রতিক্রিয়া
নিজস্ব প্রতিবেদক
পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যে নতুন নিরাপত্তা চুক্তি তেহরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত হচ্ছে—এমন আশঙ্কার কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, এই চুক্তি আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোয় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেও তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। খবর রয়টার্সের।
সোমবার (১০ আগস্ট) তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি বলেন, নতুন এই চুক্তি আঞ্চলিক দেশগুলোর নিরাপত্তা নীতিতে একটি নতুন প্রবণতার প্রতিফলন। এতে বাইরের শক্তির ওপর নির্ভরতার পরিবর্তে নিজেদের সক্ষমতার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বাঘায়ি বলেন, ‘এই চুক্তি নিয়ে ইরানের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।’
তিনি আরও বলেন, আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক বাস্তবতার ভিত্তিতে কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে এবং তা যদি ব্যাপক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বাস্তবসম্মত হয়, পাশাপাশি শত্রু ও হুমকিকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে পারে, তাহলে তা আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারে সহায়ক হতে পারে।
ইসরায়েলকে ইঙ্গিত করে বাঘায়ি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ অস্থিতিশীলতা এবং ‘ইহুদিবাদী শত্রু’ ও তার মিত্রদের সম্ভাব্য অপব্যবহার ঠেকাতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
এর আগে ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের সদস্য ইব্রাহিম রেজায়ি পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে কড়া মন্তব্য করেন।
রেজায়ি বলেন, ‘সৌদিদের জানা উচিত, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে একটি কাগুজে চুক্তি তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না। একইভাবে, বছরের পর বছর যুক্তরাষ্ট্রের ওপর একতরফা নির্ভরশীলতাও তাদের নিরাপত্তা দিতে পারেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনাদের নীতি পরিবর্তন করুন, যাতে নিরাপত্তার জন্য অন্যদের কাছে অনুরোধ করতে না হয়।’
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সাম্প্রতিক বক্তব্যে একদিকে চুক্তি নিয়ে প্রকাশ্য উদ্বেগ না দেখানোর কূটনৈতিক বার্তা রয়েছে, অন্যদিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বহিরাগত শক্তির প্রভাব কমানোর পক্ষে তাদের দীর্ঘদিনের অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।










