
শাহ্ ফুজায়েল আহমদ, নিজস্ব প্রতিবেদক
পর্যটক, দর্শনার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তার স্বার্থে বাগেরহাটের ঐতিহ্যবাহী খান জাহান আলী (রহ.) মাজার শরীফ সংলগ্ন দিঘিতে থাকা কুমিরটি সাময়িকভাবে অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন।
সাম্প্রতিক এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় মঙ্গলবার (২ জুন) রাত ১০টায় বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, মাজারে আগত পর্যটক, দর্শনার্থী ও স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব। এ লক্ষ্যে দিঘিতে থাকা কুমিরটিকে সাময়িকভাবে সরিয়ে সুন্দরবনের কুমির প্রজনন কেন্দ্রে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাজার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক ঘটনার পর মাজার দিঘির কুমিরকে ঘিরে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পর ভবিষ্যতে কুমিরটিকে পুনরায় দিঘিতে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
এ বিষয়ে বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, কুমিরটি নিরাপদে সরিয়ে নিতে বুধবার খুলনা থেকে বিশেষজ্ঞদের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবে। তারা কুমির ধরার কৌশল নির্ধারণ করে স্থানান্তরের সময় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
উল্লেখ্য, গত সোমবার (১ জুন) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে মাজার সংলগ্ন দিঘিতে গোসল করতে নেমে কুমিরের আক্রমণে সাত বছর বয়সী শিশু ফাতেমা আক্তার নিহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কুমিরটি শিশুটিকে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়। পরদিন ভোরে মাজার সংলগ্ন মহিলা ঘাট এলাকা থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটক ও দর্শনার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে প্রশাসন দ্রুত এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।