নীলফামারীতে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচনায় যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন
রাব্বি রহমান
নীলফামারী প্রতিনিধি
নীলফামারী সদর উপজেলার যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এবং গোড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ ঘিরে এলাকায় জনমনে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ভুক্তভোগীদের দাবি, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, ভিজিএফ কার্ড বিতরণ এবং প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ আদায় করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, টি.আর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পে প্রতি লাখ টাকায় প্রায় ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত কমিশন নেওয়া হতো। এছাড়া ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বরাদ্দকৃত ভিজিএফ কর্মসূচির প্রায় ৪০০টি কার্ড নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখার অভিযোগও রয়েছে।
গোড়গ্রাম ইউনিয়নের একাধিক ইউপি সদস্য অভিযোগ করেন, প্রকল্প অনুমোদন ও বিল ছাড়ের সময় নিয়মিত অর্থ আদায় করা হতো। সংরক্ষিত নারী সদস্য বিলকিস বেগম বলেন, একটি প্রকল্পের বিপরীতে তার কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে এবং এখনো বিল পাননি। একই ধরনের অভিযোগ করেন আরেক সদস্য চম্পা রানীও।
ইউপি সদস্য মশিউর রহমান জানান, প্রকল্প বরাদ্দের জন্য প্রতি লাখে ২০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত ১২ মার্চ গোড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে দুর্নীতির প্রতিবাদে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও এলাকাবাসী অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন।
এছাড়া ২০২৫–২৬ অর্থবছরের ৭ দিনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের সরকার নির্ধারিত ৬০০ টাকার পরিবর্তে ৫৫০ টাকা প্রদান করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে একটি সংগঠনের নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে, যেখানে স্থায়ী অবকাঠামো না থাকা সত্ত্বেও সুপারিশ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেও এখনো কোনো তদন্ত কমিটি গঠন বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে ক্ষোভ আরও বাড়ছে।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ তদন্তের আশ্বাস দিলেও এখনো কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মো. আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
এ ঘটনায় নীলফামারীতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।