নবীপ্রেমের আবেগে মুখর মৌলভীবাজার, জশনে জুলুছে শান্তি-সম্প্রীতির আহ্বান
- আপলোডের সময় : Thursday, August 27, 2026,

নবীপ্রেমের আবেগে মুখর মৌলভীবাজার, জশনে জুলুছে শান্তি-সম্প্রীতির আহ্বান
মো. জুনাইদ মিয়া, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
আমার সকাল ২৪
পবিত্র ১২ রবিউল আউয়াল উপলক্ষে মৌলভীবাজারে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য জশনে জুলুছ ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) ধর্মপ্রাণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে নবীপ্রেম, দরুদ-সালাম ও শান্তি-সম্প্রীতির বার্তায় মুখর হয়ে ওঠে শহরের রাজপথ।
দুপুর ১২টায় শহরের পৌর জনমিলন কেন্দ্র, কোর্ট রোডে গণজমায়েত ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে বিকেল সাড়ে ২টায় বর্ণাঢ্য জশনে জুলুছ বের করা হয়। জুলুছটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ’সহ বিভিন্ন নবীপ্রেমের স্লোগান ও দরুদ-সালাম ধ্বনিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুফতি মাওলানা অধ্যক্ষ শেখ শিব্বির আহমদ সিরাজনগরী। প্রধান অতিথি ছিলেন অধ্যক্ষ আব্দুল করিম সিরাজনগরী। উদ্বোধন করেন পীরজাদা সৈয়দ মো. ফয়জুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ আব্দুল করিম সিরাজনগরী বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সমগ্র মানবজাতির জন্য রহমত ও হেদায়াতের বার্তা নিয়ে পৃথিবীতে আগমন করেছেন। তাঁর জীবন, চরিত্র ও আদর্শ মানবতার জন্য অনুসরণীয়।
তিনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা শুধু আবেগ বা আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না রেখে তাঁর সুন্নাহ ও আদর্শ ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে বাস্তবায়ন করতে হবে। তাঁর শিক্ষা অনুসরণ করে হিংসা, বিদ্বেষ, অন্যায় ও বিভেদ দূর করে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
আলোচনা সভায় প্রিন্সিপাল মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান মহানবী (সা.)-এর জন্ম ও আগমনের তাৎপর্য তুলে ধরে তাঁর আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে সমাজে ন্যায়, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
বক্তারা বলেন, নবীপ্রেম শুধু স্লোগান কিংবা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মহানবী (সা.)-এর সুন্নাহ ও আদর্শ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক সম্প্রীতি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
অনুষ্ঠানে আলেম-ওলামা ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। জশনে জুলুছকে ঘিরে সকাল থেকেই শহরে ধর্মপ্রাণ মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। বিভিন্ন ব্যানার ও ধর্মীয় পতাকা নিয়ে বিভিন্ন বয়সী মানুষ এতে অংশ নেন।
আয়োজকরা জানান, মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া, নবীপ্রেমে উজ্জীবিত করা এবং কোরআন-সুন্নাহর আলোকে শান্তিপূর্ণ ও মানবিক সমাজ গঠনের বার্তা পৌঁছে দেওয়াই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
পরে মিলাদ-কিয়াম, আখেরি মোনাজাত ও তাবারুক বিতরণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি হয়।











লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?
মন্তব্য করতে সাইন-আপ বা লগইনের প্রয়োজন নেই - সরাসরি আপনার মতামত লিখুন।