দ্বিগুণ লাভের প্রলোভনে কোটি টাকা, নেছারাবাদে দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আমানত আত্মসাতের অভিযোগ
- আপলোডের সময় : Sunday, October 4, 2026,

দ্বিগুণ লাভের প্রলোভনে কোটি টাকা, নেছারাবাদে দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আমানত আত্মসাতের অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার : মাসুম বিল্লাহ
দ্বিগুণ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে হাজার হাজার মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আমানত সংগ্রহের পর তা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পিরোজপুরের নেছারাবাদে। ‘পপুলার মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড’ ও ‘সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অরগানাইজেশন (এসডিও)’ নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসব টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মেয়াদ শেষে মুনাফা তো দূরের কথা, অনেক গ্রাহক তাদের মূল টাকাও ফেরত পাচ্ছেন না। টাকা ফেরত চাইতে গেলে প্রতিষ্ঠানের লোকজনের মাধ্যমে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন গ্রাহক। এদিকে অভিযোগের মূল ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা ফরিদ হোসেনকে তার কার্যালয়ে পাওয়া যাচ্ছে না। মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, এককালীন, সাপ্তাহিক ও মাসিক ভিত্তিতে আমানত সংগ্রহ করা হতো। নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে দ্বিগুণ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ মানুষকে এসব প্রতিষ্ঠানে টাকা জমাতে উৎসাহিত করা হয়। শুরুতে নিয়মিত লেনদেন ও মুনাফা দেওয়ার মাধ্যমে গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করা হলেও পরবর্তী সময়ে মেয়াদ পূর্ণ হওয়া আমানত ফেরত দেওয়া নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়।
একাধিক গ্রাহক জানান, তারা নিজেদের সঞ্চয়, ব্যবসার পুঁজি এবং ধার করা টাকা পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠানে জমা রেখেছেন। মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও টাকা ফেরত না পাওয়ায় তারা আর্থিক সংকটে পড়েছেন। টাকা ফেরতের জন্য কার্যালয়ে গেলে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
চেক নিয়ে ‘নতুন কৌশল’
প্রতিষ্ঠান দুটির বিরুদ্ধে চেক নিয়ে প্রতারণার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন গ্রাহক। তাদের দাবি, একজন গ্রাহকের নামে থাকা ডিসঅনার চেক ব্যবহার করে অন্য গ্রাহকদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পরে মামলার ভয় দেখিয়ে দ্বিগুণ বা তিনগুণ টাকা আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের কয়েকজন বলেন, নিজেদের আমানতের টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে উল্টো মামলার ভয় দেখানো হচ্ছে। এতে অনেক গ্রাহক আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।
আমানতের টাকায় জমি কেনার অভিযোগ
সমবায় সমিতির সাবেক এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, গ্রাহকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা আমানতের টাকা দিয়ে ফরিদ হোসেন নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ জমি কিনেছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন। তবে এ অভিযোগের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো দলিল বা নথি পাওয়া যায়নি।
সমাজসেবা অফিসের দায় নেই
এ বিষয়ে নেছারাবাদ উপজেলা সমাজসেবা অফিস জানায়, এ ধরনের আমানত গ্রহণের কার্যক্রম নিয়মবহির্ভূত। ‘পপুলার মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড’ সমাজসেবা বিভাগের আওতাভুক্ত নয়। ফলে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক কার্যক্রমের কোনো দায়ভার সমাজসেবা অফিস নেবে না।
বক্তব্য মেলেনি ফরিদের
অভিযোগের বিষয়ে ফরিদ হোসেনের বক্তব্য জানতে তার কার্যালয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। ফলে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
তবে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে ফরিদ হোসেনের সঙ্গে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করবেন।
এদিকে আমানতের টাকা ফেরত না পাওয়ায় ভুক্তভোগীরা তাদের অর্থ উদ্ধারের পাশাপাশি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।



















লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?
মন্তব্য করতে সাইন-আপ বা লগইনের প্রয়োজন নেই - সরাসরি আপনার মতামত লিখুন।