
রাব্বি রহমান, নীলফামারী প্রতিনিধি:
নীলফামারী সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ও গোড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মোঃ আলমগীর হোসেনকে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় বদলি করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠার মধ্যেই এ বদলির আদেশ জারি হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুব-১ শাখা থেকে মঙ্গলবার (১২ মে ২০২৬) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আগামী ১৮ মে’র মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করলে তাকে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) হিসেবে গণ্য করা হবে।
গোড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে টি.আর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পে কমিশন বাণিজ্য, ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ, ভিজিএফ ও ভিডব্লিউবি কার্ডে অনিয়ম, প্রশিক্ষণ খাতে দুর্নীতি এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ ওঠে।
ইউপি সদস্যদের অভিযোগ, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দের বিপরীতে প্রতি লাখ টাকায় প্রায় ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত কমিশন নেওয়া হতো। সংরক্ষিত নারী সদস্য বিলকিস বেগম ও চম্পা রানী অভিযোগ করেন, প্রকল্প দেওয়ার নামে তাদের কাছ থেকে অগ্রিম ৪০ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ভিজিএফ চাল বিক্রি, ভুয়া কার্ড নিয়ন্ত্রণ, ভিডব্লিউবি ও মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ডে অর্থ আদায়, ইউনিয়ন পরিষদের ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা আত্মসাৎ এবং ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
প্রশিক্ষণ কার্যক্রমেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশিক্ষণার্থীদের নির্ধারিত ভাতার চেয়ে কম টাকা দেওয়া হয়েছে এবং অংশগ্রহণকারীর সংখ্যাও কাগজে-কলমে বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে।
গত ১২ মার্চ অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদে গোড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ইউপি সদস্য ও এলাকাবাসী প্রায় এক ঘণ্টা প্রশাসক আলমগীর হোসেনকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে ২৫ মার্চ নীলফামারী উপজেলা প্রশাসন তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।
এদিকে, গত ১০ মে আলমগীর হোসেনের পদত্যাগ এবং পরবর্তীতে বদলির আদেশ নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তাঁর সম্পদের উৎস ও দুর্নীতির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।