দুই দিনে দুই বিদায়, সৃষ্টিকর্মে থেকে যাবেন মুকুল জামিল ও সজীব

প্রতিনিধির নাম:
  • আপলোডের সময় : Tuesday, September 15, 2026,
দুই দিনে দুই বিদায়, সৃষ্টিকর্মে থেকে যাবেন মুকুল জামিল ও সজীব
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন

আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।
দুই দিনে দুই বিদায়, সৃষ্টিকর্মে থেকে যাবেন মুকুল জামিল ও সজীব

দুই দিনে দুই বিদায়, সৃষ্টিকর্মে থেকে যাবেন মুকুল জামিল ও সজীব

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিনোদন

কেউ চলে গেলে শুধু একজন মানুষ হারিয়ে যায় না, তার সঙ্গে নিভে যায় একটি কণ্ঠ, থেমে যায় একটি গল্প, হারিয়ে যায় পরিচিত কোনো হাসি কিংবা ভালোবাসার উষ্ণতা। বিনোদন অঙ্গন যেন মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে এমনই শূন্যতার মুখোমুখি হয়েছে। একদিকে অভিনেতা ও সংগীতশিল্পী মুকুল জামিল, অন্যদিকে তরুণ নাট্যকার ও নির্মাতা মারুফ হোসেন সজীব। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে দুজনের প্রয়াণে শোক নেমে এসেছে সংগীত ও নাট্যাঙ্গনে। রেখে গেছেন তাদের সৃষ্টিকর্ম ও অসংখ্য মানুষের মনে জমে থাকা স্মৃতি।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান মুকুল জামিল। তার আকস্মিক মৃত্যুতে সংগীত ও অভিনয় অঙ্গনে নেমে আসে শোকের ছায়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাকে স্মরণ করেন। অভিনয়শিল্পী সংঘও তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন

আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।

মুকুল জামিলের মৃত্যু বিশেষভাবে নাড়া দিয়েছে সংগীতশিল্পী মিলনকে। প্রিয় সহকর্মীকে স্মরণ করে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘মুকুল জামিল ভাই এভাবে হঠাৎ চলে যাবেন, এটা আমার জন্য প্রচণ্ড কষ্টের।’ দেখা হলেই বুকে জড়িয়ে ধরা ও স্নেহ প্রকাশের স্মৃতিচারণ করে মিলন জানান, প্রিয় মানুষটির সঙ্গে আর দেখা হবে না—এই বাস্তবতাই তার কাছে সবচেয়ে কষ্টের।

সংগীতশিল্পী হিসেবে মুকুল জামিলের পথচলা ছিল দীর্ঘ। ছোটবেলা থেকেই রবীন্দ্রসংগীতের প্রতি তার গভীর আগ্রহ ছিল। বোনের হাত ধরে গানের জগতে প্রবেশ করেন তিনি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ৩০টির বেশি মিক্স অ্যালবামে কাজ করেছেন। প্রকাশিত হয়েছে তার একক অ্যালবাম ‘আমি তো এমনই’। ‘মন’, ‘আচ্ছা’, ‘বিলবোর্ড’, ‘ভালবাসার মানে’ ও ‘ফাগুনের হাওয়া’সহ তার বেশ কিছু গান শ্রোতাদের কাছে পরিচিতি পেয়েছে। ‘চায়ের চুমুকে’ গানটিও এটিএন বাংলায় প্রচারিত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন

আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।

গানের পাশাপাশি অভিনয়েও নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছিলেন মুকুল জামিল। ‘ওয়েডিং বেলস’ (২০১৯), ‘আমানুষ’ (২০২২) ও ‘ছাত্রী বউ’ (২০২৪) চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। সংগীতশিল্পী মিলনের কয়েকটি গানের ভিডিওতেও দেখা গেছে তাকে। ফলে সংগীত ও অভিনয়—দুই অঙ্গনেই তৈরি হয়েছিল তার পরিচিতি।

ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে বিয়ে, ভবিষ্যতে যেন এমন না হয়: এমপি সরোয়ার আলমগীর ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে বিয়ে, ভবিষ্যতে যেন এমন না হয়: এমপি সরোয়ার আলমগীর

মুকুল জামিলের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই ১৫ সেপ্টেম্বর ভোরে আসে আরও একটি বিষণ্ন সংবাদ। ভোর ৫টার দিকে ঘুমের মধ্যেই মারা যান তরুণ নাট্যকার ও নির্মাতা মারুফ হোসেন সজীব। বছরের শুরু থেকেই হৃদযন্ত্রের সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। তবে মৃত্যুর আগের রাতেও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন, আড্ডা দিয়েছেন। সেই আড্ডাই যে শেষ দেখা হয়ে থাকবে, তা কেউ ভাবতে পারেননি।

সজীবের আকস্মিক মৃত্যুতে ছোটপর্দায়ও নেমে এসেছে শোকের আবহ। জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সজীবের ছবি প্রকাশ করে তার মৃত্যুর খবর জানান। তার সংক্ষিপ্ত শোকবার্তায় ফুটে ওঠে প্রিয় নির্মাতার অকালপ্রয়াণের বেদনা।

মারুফ হোসেন সজীব ছিলেন গল্প বলার মানুষ। নিজের নাটকের গল্প নিজেই লিখতেন এবং সেই গল্প ক্যামেরায় তুলে ধরতেন নিজস্ব নির্মাণশৈলীতে। গল্প বলার ভিন্ন ঢঙ ও নির্মাণের প্রতি যত্ন তাকে সমসাময়িক নির্মাতাদের মধ্যে আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছিল। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন একাধিক সম্মাননাও।

দুজনের পথ ছিল ভিন্ন। একজন সুরের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছেছেন, অন্যজন গল্প ও দৃশ্যের ভেতর দিয়ে। একজনের হাতে ছিল গান, অন্যজনের হাতে ক্যামেরা। কিন্তু তাদের বিদায় যেন একই বিষাদের সুরে বাঁধা পড়ল। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে দুজনই চলে গেলেন, পেছনে রেখে গেলেন অসমাপ্ত কিছু স্বপ্ন, প্রিয় কিছু কাজ এবং অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা।

জীবন কখন যে শেষ দৃশ্যের দিকে এগিয়ে যায়, তার কোনো পূর্বঘোষণা থাকে না। মুকুল জামিলের কণ্ঠে আর নতুন গান শোনা যাবে না, সজীবের ক্যামেরায় আর নতুন গল্পের জন্ম হবে না। তবে শিল্পীর জীবন থেমে গেলেও তার সৃষ্টিকর্ম থেমে থাকে না। তাদের গান, অভিনয়, গল্প ও নির্মাণের মধ্য দিয়েই তারা বেঁচে থাকবেন—কখনো কোনো গানের সুরে, কখনো পর্দার কোনো দৃশ্যে, আবার কখনো স্মৃতির অলিগলিতে।

দুই দিনে দুই বিদায়। দুজন মানুষ চলে গেলেও তাদের সৃষ্টির ভেতর যে আলো জ্বেলে গেছেন, তা সহজে নিভে যাওয়ার নয়। মৃত্যুর নীরবতার ওপারেও তাদের কাজ বলে যাবে—মানুষ চলে যায়, গল্প থেকে যায়।

শেয়ার করুন:

লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?

মন্তব্য করতে সাইন-আপ বা লগইনের প্রয়োজন নেই - সরাসরি আপনার মতামত লিখুন।

একটি মন্তব্য লিখুন

আমার সকাল ২৪  ই – পেপার

এ সংক্রান্ত