দরিদ্র হাজং দম্পতিকে নতুন ঘর দিলেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল

  • আপলোডের সময় : Wednesday, August 26, 2026,
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন

আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।

দরিদ্র হাজং দম্পতিকে নতুন ঘর দিলেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল

আনারুল ইসলাম
দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

সামান্য বৃষ্টি হলেই জরাজীর্ণ ঘরের ভেতর পানি ঢুকত। রাতভর ঘুমানোর বদলে বসে থাকতে হতো বৃদ্ধ দম্পতিকে। পুরোনো টিন ও প্লাস্টিক দিয়ে জোড়াতালি দেওয়া ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগও ছিল না। সন্ধ্যা নামলেই নেমে আসত অন্ধকার। অবশেষে সেই মানবেতর জীবন থেকে মুক্তি পেয়েছেন নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার ৮৩ বছর বয়সী কিরণ হাজং ও তার স্ত্রী ৭৮ বছর বয়সী পিকলা হাজং।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার ২ নম্বর দুর্গাপুর ইউনিয়নের শ্যামনগর গ্রামের এই অসহায় দম্পতির হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেওয়া হয়। তাদের জন্য নতুন বসতঘরটি উপহার দিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন

আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।

কিরণ হাজং বার্ধক্যের কারণে প্রায় চোখে দেখতে পান না। চলাফেরার জন্যও অন্যের সহায়তা নিতে হয়। তার স্ত্রী পিকলা হাজংও বয়সজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। তাদের কোনো স্থায়ী আয়ের উৎস নেই। স্থানীয়দের সহযোগিতায় কোনোভাবে চলে তাদের সংসার।

একসময় মানুষের জমিতে ধান কাটার পাশাপাশি শুঁটকি মাছ ধরা ও দিনমজুরি করে সংসার চালাতেন কিরণ হাজং। বয়সের ভারে এখন আর কাজ করতে পারেন না। দীর্ঘদিন ধরে বয়স্ক ভাতার জন্য চেষ্টা করেও তা পাননি বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন

আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।

নতুন ঘর পেয়ে আবেগাপ্লুত কিরণ হাজং বলেন, “আগে মানুষের জমিতে কাজ করতাম। এখন শরীরে আর শক্তি নেই, চোখেও ঠিকমতো দেখি না। আমার জীবনের শেষ ইচ্ছা ছিল একটি নিরাপদ ঘর। নতুন ঘর পেয়ে আমরা খুব খুশি। ব্যারিস্টার কায়সার কামালের কাছে আমি চিরঋণী হয়ে থাকব। তার জন্য আমরা দোয়া করি, তিনি যেন দীর্ঘজীবী হন।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিরণ হাজং ও তার স্ত্রীর দুর্দশার কথা তুলে ধরে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। বিষয়টি ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নজরে এলে তিনি নিজস্ব টিমের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত এলাকায় খোঁজ নেন। পরে বৃদ্ধ দম্পতির জন্য নতুন ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ঘর নির্মাণের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন লেংগুড়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মিলন মিয়া।

নতুন ঘর হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন মাস্টার, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক, সাধারণ সম্পাদক বোরহান উদ্দিন, কুল্লাগড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম, সংরক্ষিত নারী সদস্য রিতা নকরেক, স্থানীয় স্কুলশিক্ষার্থীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

কিরণ হাজং ও পিকলা হাজং নিজেরাই ফিতা কেটে নতুন ঘরের উদ্বোধন করেন। পরে উপস্থিত সবাইকে সঙ্গে নিয়ে নতুন ঘরে প্রবেশ করেন তারা। দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ ঘর ছেড়ে নতুন ঘরে প্রবেশের সময় তাদের মধ্যে আনন্দ ও আবেগের অনুভূতি দেখা যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা জিতেন্দ্র হাজং বলেন, “কিরণ হাজং ও পিকলা হাজং দীর্ঘদিন ধরে এই গ্রামে বসবাস করছেন। বয়সের ভারে এখন তারা ন্যুব্জ হয়ে পড়েছেন। চোখেও কম দেখেন। বৃষ্টি হলেই তাদের সারারাত বসে থাকতে হতো। ঘরের সবকিছু ভিজে যেত। নতুন ঘর পাওয়ায় তাদের সেই দুর্দশার অবসান হয়েছে।”

দুর্গাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক বলেন, “কিরণ হাজং বয়স্ক ভাতার জন্য চার বছর আগে আবেদন করেও ভাতা পাননি। সাংবাদিকরা তাদের নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর বয়স্ক ভাতার ব্যবস্থা হয়েছে। এখন নতুন ঘর পাওয়ায় তারা অন্তত নিরাপদে থাকতে পারবেন। তবে তাদের বিদ্যুৎ সংযোগ ও চিকিৎসাসেবার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।”

সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য রিতা নকরেক বলেন, “আমি তাদের বাড়িতে গিয়ে দেখেছি, তারা অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে বসবাস করছিলেন। ঘরটি জরাজীর্ণ ছিল এবং বিদ্যুৎ সংযোগও ছিল না। নতুন ঘর পাওয়ায় তারা এখন কিছুটা স্বস্তি পাবেন।”

এলাকাবাসী ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, অসহায় এই বৃদ্ধ দম্পতির দীর্ঘদিনের দুর্দশা লাঘবে নতুন ঘর দেওয়ার উদ্যোগ মানবিকতার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে তাদের জীবনযাপন স্বাভাবিক করতে বিদ্যুৎ সংযোগ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করার দাবি জানান তারা।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আমার সকাল ২৪  ই – পেপার

এ সংক্রান্ত