থানচিতে নামমাত্র যুব উন্নয়ন অফিস, ২৯ বছরেও নেই পূর্ণাঙ্গ জনবল
- আপলোডের সময় : Thursday, September 3, 2026,

থানচিতে নামমাত্র যুব উন্নয়ন অফিস, ২৯ বছরেও নেই পূর্ণাঙ্গ জনবল
স্টাফ রিপোর্টার, বান্দরবান: সুকেল তঞ্চঙ্গ্যা
বান্দরবানের থানচি উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কার্যক্রম দীর্ঘ ২৯ বছর ধরে জনবল সংকটে চলছে। সাতটি অনুমোদিত পদের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র একজন সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা দাপ্তরিক ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এতে দুর্গম এলাকার তরুণ-তরুণীরা প্রশিক্ষণ, ঋণ ও আত্মকর্মসংস্থানমূলক বিভিন্ন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা যুব উন্নয়ন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে দপ্তরটিতে সাতটি অনুমোদিত পদ থাকলেও কখনো পূর্ণাঙ্গ জনবল নিয়োগ হয়নি। ২০২০ সাল থেকে একমাত্র সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. গোলাম ফারুকই দাপ্তরিক ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
সম্প্রতি উপজেলা মাসিক সমন্বয় সভায় আলীকদম উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. রেজাউল রহমানকে থানচি কার্যালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি জানানো হয়। তবে ভৌগোলিক দূরত্ব ও যোগাযোগব্যবস্থার কারণে তিনি নিয়মিত থানচিতে উপস্থিত থাকতে পারেন না বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
সরেজমিনে কার্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, দেয়ালে নাগরিক সেবা চার্টারে ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী যুবকদের কারিগরি প্রশিক্ষণ, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার বিভিন্ন সেবার কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় এসব সেবা যথাযথভাবে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
দুর্গম বড় মদক এলাকা থেকে সেবা নিতে আসা স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে উপজেলা সদরে এসেও অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া যায় না।
সদ্য মাস্টার্স শেষ করা উশৈসিং মারমা বলেন, “অফিসে এসে প্রায়ই দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে পাওয়া যায় না। চার্টারে সুন্দর কথা লেখা থাকলেও বাস্তবে আমরা বঞ্চিত।”
স্থানীয় তরুণী দিপিকা ত্রিপুরা বলেন, “প্রশিক্ষণ বা ঋণের বিষয়ে সহযোগিতা চাওয়া তো দূরের কথা, একজন কর্মকর্তা দাপ্তরিক চাপ সামলাতেই হিমশিম খাচ্ছেন।”
তথ্য প্রদানে গড়িমসির অভিযোগের বিষয়ে সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. গোলাম ফারুক বলেন, তিনি সাধ্যমতো কাজ করার চেষ্টা করছেন। তবে তথ্য অধিকার আইনে তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও আলীকদম উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. রেজাউল রহমান বলেন, তিনি নতুন করে থানচির দায়িত্ব পেয়েছেন। তথ্য প্রদানে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। আগামী ১০ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর ঋণ বিতরণের সময় থানচিতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলবেন বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকার বেকার যুবসমাজকে স্বাবলম্বী করতে থানচি যুব উন্নয়ন কার্যালয়ের শূন্য পদগুলোতে দ্রুত জনবল নিয়োগ প্রয়োজন। পাশাপাশি যুব ক্লাবগুলো সচল করা এবং প্রশিক্ষণ ও ঋণ কার্যক্রম আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।










