তুরস্কের ৫ বিস্ময়কর স্থান, যেখানে ইতিহাস ও প্রকৃতির অপূর্ব মেলবন্ধন
- আপলোডের সময় : Tuesday, September 15, 2026,

তুরস্কের ৫ বিস্ময়কর স্থান, যেখানে ইতিহাস ও প্রকৃতির অপূর্ব মেলবন্ধন
ভ্রমণ ডেস্ক
আমার সকাল ২৪
ঢাকা
তুরস্ক বলতেই অনেকের চোখে ভেসে ওঠে ইস্তাম্বুলের ব্যস্ত নগরী, ভূমধ্যসাগরের সৈকত কিংবা বিলাসবহুল রিসোর্ট। তবে এসব পরিচিত গন্তব্যের বাইরেও দেশটিতে রয়েছে এমন কিছু বিস্ময়কর স্থান, যেখানে ইতিহাস, প্রকৃতি ও রহস্য একসঙ্গে মিশে আছে।
কোথাও মাটির প্রায় ৪০ মিটার নিচে রয়েছে প্রাচীন নগরী, কোথাও পাথরের গায়ে খোদাই করা হয়েছে ৮৩ দেবতার ছবি। আবার কোথাও পানির নিচে মিলেছে প্রাচীন জীবনের চিহ্ন। এমনকি পাহাড়ের চূড়ায় রয়েছে বিশাল পাথরের মূর্তিও। ভিন্নধর্মী এসব স্থানের মধ্যে পর্যটকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণীয় পাঁচটি জায়গা হলো—
মালদ্বীপের মতো সৌন্দর্যের সালদা হ্রদ
তুরস্কের বুরদুর প্রদেশে অবস্থিত সালদা হ্রদ। প্রথম দেখায় হ্রদের সাদা তীর ও নীল পানি অনেকটা মালদ্বীপের সৈকতের কথা মনে করিয়ে দিতে পারে। এর অনন্য সৌন্দর্যের অন্যতম কারণ হাইড্রোম্যাগনেসাইটসমৃদ্ধ খনিজ স্তর।
কোথাও কোথাও হ্রদটির গভীরতা প্রায় ২০০ মিটার। হ্রদের তীরে ঘোরাঘুরি, পিকনিক ও সাঁতারের পাশাপাশি আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় হাঁটার সুযোগ রয়েছে।
তবে সালদার সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক এর পানির নিচে। এখানে প্রাচীন জীবনের কিছু চিহ্ন পাওয়া গেছে। এসব গবেষণা নাসার ২০২০ সালের মঙ্গল অভিযানের প্রস্তুতিতেও বৈজ্ঞানিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
ক্যাপাডোসিয়ার মাটির নিচের শহর
তুরস্কের ক্যাপাডোসিয়া অঞ্চলের মাটির নিচে রয়েছে প্রাচীন শহর কায়মাকলি। নরম আগ্নেয় পাথরের স্তরের নিচে তৈরি এ শহরে রয়েছে অসংখ্য সুড়ঙ্গ, যা প্রায় ৪০ মিটার গভীর পর্যন্ত নেমে গেছে।
ধারণা করা হয়, খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতকে ফ্রিজীয়রা এসব গুহা তৈরি করেছিল। পরবর্তী সময়ে এখানে ঘরবাড়ি, রান্নাঘর, গির্জা, আস্তাবল ও ধাতু তৈরির কারখানাসহ বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে ওঠে।
শহরটির মোট আটটি তলা রয়েছে, যার চারটি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত। একসময় এখানে প্রায় ২০ হাজার মানুষ বসবাস করতে পারতেন বলে ধারণা করা হয়। আরব-বাইজেন্টাইন যুদ্ধের সময় খ্রিস্টানরা এই ভূগর্ভস্থ শহরে আশ্রয় নিতেন বলে ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে।
ইয়াজিলিকায়ার পাথরে ৮৩ দেবতার প্রতিকৃতি
তুরস্কে প্রাচীন সভ্যতার অসংখ্য নিদর্শন ছড়িয়ে রয়েছে। এর মধ্যে ইয়াজিলিকায়া হিট্টাইট সভ্যতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনা।
খ্রিস্টপূর্ব ১৩ শতকে তৈরি এই খোলা পাথুরে স্থানে বিশাল পাথরের গায়ে ৮৩ দেবতার প্রতিকৃতি খোদাই করা রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন পৌরাণিক প্রাণী ও রাজাদের চিত্রও দেখা যায়।
ইয়াজিলিকায়ার কাছেই রয়েছে হিট্টাইটদের প্রাচীন রাজধানী হাত্তুসা। ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ দুটি স্থানই ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় রয়েছে।
নেমরুত পাহাড়ের চূড়ায় বিশাল পাথরের মূর্তি
তুরস্কের আনাতোলিয়া অঞ্চলের নেমরুত পাহাড়ও পর্যটকদের কাছে এক বিস্ময়কর গন্তব্য। খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতকে পাহাড়ের চূড়ায় একটি সমাধি ও স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়। এটি তৈরি করেছিলেন কমাজেন রাজ্যের রাজা প্রথম অ্যান্টিওকাস থিওস।
পাহাড়ের চূড়ায় রয়েছে বিশাল পাথরের মূর্তি, স্তম্ভ ও বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন। মূর্তিগুলোর উচ্চতা প্রায় ৯ মিটার। সময়ের ব্যবধানে মূর্তিগুলোর মাথা মূল কাঠামো থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এখন মাটিতে পড়ে রয়েছে। পাহাড়ের চূড়ায় ছড়িয়ে থাকা এসব বিশাল মূর্তি পুরো এলাকাকে দিয়েছে রহস্যময় আবহ।
আড়াই হাজার বছর ধরে জ্বলছে পাথরের আগুন
তুরস্কের আনতালিয়া অঞ্চলের অলিম্পোসের কাছে রয়েছে ইয়ানারতাশ। এখানকার পাথরের ফাঁক দিয়ে ছোট ছোট আগুন জ্বলতে দেখা যায়। প্রায় ৫ হাজার বর্গমিটার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এসব আগুন পর্যটকদের জন্য অন্যতম আকর্ষণ।
পাথরের নিচ থেকে বের হওয়া মিথেনসহ বিভিন্ন গ্যাসের কারণে এসব আগুন জ্বলছে। ঋতুভেদে আগুনের তীব্রতা ও অবস্থানে কিছুটা পরিবর্তন দেখা যায়।
ধারণা করা হয়, প্রায় আড়াই হাজার বছর ধরে এ এলাকায় প্রাকৃতিকভাবে আগুন জ্বলছে। বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে পাথরের ফাঁক থেকে বের হওয়া আগুন পুরো এলাকাকে এক রহস্যময় দৃশ্যে পরিণত করে।



















লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?
মন্তব্য করতে সাইন-আপ বা লগইনের প্রয়োজন নেই - সরাসরি আপনার মতামত লিখুন।