ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি অপসারণের দাবি ছাত্রদলের
- আপলোডের সময় : Monday, September 14, 2026,

ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি অপসারণের দাবি ছাত্রদলের
নিজস্ব প্রতিবেদক
আমার সকাল ২৪
ঢাকা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর বিতর্কিত ছবি প্রদর্শনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সংগঠনটি দ্রুত ডাকসু সংগ্রহশালা থেকে ছবিটি অপসারণের দাবি জানিয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রদল দাবি করে, ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজ ওই বক্তব্যের প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে সোচ্চার হয়েছিল। সংগঠনটির ভাষ্য, পরবর্তী সময়ে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশে এ প্রতিবাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই বাংলার স্বাধিকার আন্দোলনের সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন ভাষা ও স্বাধীনতা আন্দোলনের ঐতিহ্যের প্রতি অবমাননা।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগ তোলে ছাত্রদল। সংগঠনটির দাবি, সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসন, অধিকার আদায় ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে বর্তমান পরিষদ ব্যর্থ হয়েছে। একই সঙ্গে পরিষদকে দলীয় ও আদর্শিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে মধুর ক্যান্টিনের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ এবং ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি স্থাপনের বিষয় উল্লেখ করে ছাত্রদল বর্তমান পরিষদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলে। সংগঠনটির অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপরীত অবস্থানকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে।
ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, “অবিলম্বে ডাকসু সংগ্রহশালা থেকে বাংলা ভাষার বিরোধিতাকারী মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি অপসারণ করতে হবে; ডাকসুকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর আদর্শচর্চার স্থান হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে এবং ঐতিহাসিক মধুর ক্যান্টিনসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ঐতিহাসিক স্মারক ও চেতনাকে বিকৃত করার সব অপপ্রয়াস রুখে দেওয়া হবে।”
তারা আরও বলেন, ১৯৪৮ সালে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার বক্তব্যের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ যেভাবে প্রতিবাদ করেছিল, একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রগতিশীল চেতনা রক্ষায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে যে কোনো অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।



















লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?
মন্তব্য করতে সাইন-আপ বা লগইনের প্রয়োজন নেই - সরাসরি আপনার মতামত লিখুন।