
রাঙামাটি প্রতিনিধি: টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে রাঙামাটির কাপ্তাই লেকে পানির স্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়ে ১৭৯ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বর্তমানে কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট সচল রয়েছে এবং মোট ১৭৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ১ নম্বর ইউনিটে ৪২ মেগাওয়াট, ২ নম্বর ইউনিটে ৪২ মেগাওয়াট, ৩ নম্বর ইউনিটে ৩৫ মেগাওয়াট, ৪ নম্বর ইউনিটে ৩০ মেগাওয়াট এবং ৫ নম্বর ইউনিটে ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।
পানি সংকটের কারণে গত তিন মাস ধরে কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট একসঙ্গে চালু রাখা সম্ভব হয়নি। ফলে ২৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার এ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন একসময় ৯৬ মেগাওয়াটে নেমে এসেছিল। তবে সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই লেকে পানির প্রবাহ বাড়ায় উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুম সূত্র জানায়, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে কাপ্তাই লেকে পানির স্তর ক্রমাগত বাড়ছে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে এবং লেকে পানির পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেলে বিদ্যুৎ উৎপাদনও আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।
সূত্র আরও জানায়, রুলকার্ভ অনুযায়ী এ সময়ে কাপ্তাই লেকে পানির স্তর থাকার কথা ৯০ দশমিক ৩১ ফুট মিন সি লেভেল (এমএসএল)। বর্তমানে পানির স্তর রয়েছে ৮৫ দশমিক ৪৪ ফুট এমএসএল। লেকের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল।
উল্লেখ্য, ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র। এর বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে কাপ্তাই লেকের পানির ওপর নির্ভরশীল। লেকে পর্যাপ্ত পানি থাকলে কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট একযোগে চালিয়ে ২৩০ থেকে ২৪২ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব।