টাকার অভাবে বন্ধ চিকিৎসা, শিশু জান্নাতের পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও
কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ
অভাব-অনটনের সংসার। রিকশা চালিয়ে কোনো রকমে পরিবার চালাতেন শাহ আলম। দুঃখ-সুখের মাঝেই স্বপ্ন দেখতেন আদরের মেয়ে সিরাতুল জান্নাতকে মানুষ করার। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই স্বপ্নে নেমে আসে অন্ধকার। বিরল রোগ ক্যারোলী সিনড্রোমে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে শিশুটি। টাকার অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে তার চিকিৎসা। এমন অবস্থায় শিশুটির পাশে দাঁড়িয়েছেন নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে শিশুটির পরিবারের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেন তিনি। এ সময় সমাজসেবা কর্মকর্তা জাকির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
শিশু সিরাতুল জান্নাত (৮) কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের সিঙ্গেরগাড়ী পীরপাড়া গ্রামের হতদরিদ্র পরিবার শাহ আলম ও সুলতানা রাজিয়া দম্পতির মেয়ে। সে স্থানীয় সিঙ্গেরগাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী।
জানা যায়, এক বছর আগে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন তার বাবা-মা। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রথমে লিভার সিরোসিস ধরা পড়ে। কিন্তু টাকার অভাবে নিয়মিত চিকিৎসা চালানো সম্ভব হয়নি। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা জানান, সিরাতুল জান্নাত বিরল রোগ ক্যারোলী সিনড্রোমে আক্রান্ত। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভারতে নিতে হবে, যেখানে ব্যয় হতে পারে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা।
সিরাতুল জান্নাতের মা সুলতানা রাজিয়া বলেন, “আমি খুব গরিব মানুষ। মেয়ের চিকিৎসার জন্য বাড়ির জমিসহ সবকিছু বিক্রি করেছি। এখন আর কোনো উপায় নেই। সমাজের অনেক মানুষ সহায়তা করছেন। আজ ইউএনও স্যারও সহায়তা করেছেন। আল্লাহ স্যারকে দীর্ঘদিন বাঁচিয়ে রাখুন।”
সমাজসেবা কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, “শিশুটি দীর্ঘদিন ধরে বিরল রোগে আক্রান্ত। আমরা তাকে সহায়তা করার চেষ্টা করছি। আজ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহায়তা করেছেন। এর আগে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সেবা ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’ও সহায়তা দিয়েছে। সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া বলেন, “শিশুটিকে বাঁচাতে সমাজের সকল শ্রেণির মানুষকে এগিয়ে আস













