1. [email protected] : Amar Sokal 24 : Amar Sokal 24
ঝুঁকিতে মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি - আমার সকাল ২৪ |
১৩ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ২৮শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ| বসন্তকাল| শুক্রবার| বিকাল ৩:৩১|
ব্রেকিং নিউজ:
ঝুঁকিতে মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি রাজশাহীতে ভিজিএফের চাল বিতরণ শুরু আজমিরীগঞ্জকে আধুনিক উপজেলায় রূপান্তরের স্বপ্ন দেখছেন সিদ্দিকুর অভি শাহজাদপুর চৌকি আদালত প্রাঙ্গণে নলকূপ সচল রাখার দাবি এলাকাবাসীর রুমাবাসীর দাবি: জিংসম লিয়ান বমকে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য করার আহ্বান গুরুদাসপুর–বড়াইগ্রাম সীমান্তে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার  বাকেরগঞ্জে নৌবাহিনীর অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী আটক রাজশাহী মেডিকেলে মায়ের মৃত্যুর পর নবজাতককে দত্তক নিতে হাসপাতালে ভিড় ঈদকে সামনে রেখে গোপালগঞ্জে ‘রাজকীয় উটের মাংস’ বিক্রির ঘোষণা ৪৭টি মাথার খুলি ও বিপুল মানব হাড়সহ কঙ্কাল চোর চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার রাজশাহীতে ২ ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার নন্দীগ্রামে মাদকসহ ৪ জন গ্রেফতার, ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসি’র চাঁপাইনবাবগঞ্জ শাখায় দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত দায়সারা আয়োজনে নলছিটিতে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস পালন রূপগঞ্জে জমইয়তে হিযবুল্লাহর ইফতার ও দোয়া মাহফিল বেনাপোল স্থলবন্দরে ১৭ মেট্রিক টন পাটের বীজের চালান আটক ফরিদপুরে ইটভাটায় মোবাইল কোর্ট, দুই ভাটাকে জরিমানা উলিপুরে যথাযথ মর্যাদায় পালিত জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস–২০২৬ নওগাঁর মান্দায় প্রভাবশালীদের প্রভাবে ফসলি মাটি হরিলুট নারায়ণগঞ্জে ডিউটিরত পুলিশের কাছ থেকে ছিনতাইকৃত পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলি উদ্ধার, গ্রেফতার ১    পানিসারা ইউনিয়ন জামায়াতের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত বগুড়ায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন, ৪৯৬ নারী পেলেন টাকা আজমপুর স্টেশনে সিগন্যাল চুরি ও রহস্যময় কার্যক্রম: স্থানীয়দের অভিযোগ জগন্নাথপুরে স্বপ্নজয়ী পাঠশালার ছাত্রছাত্রীদের ঈদ উপহার বিতরণ ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজয়নগরে স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণ: প্রধান আসামি গ্রেফতার কেশবপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় এক যুবকের মৃত্যু রূপগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনায় কৃষকদল নেতাসহ ৪ জনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম নওগাঁর আত্রাইয়ে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস-২০২৬ উদযাপন পীরগঞ্জে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস-২০২৬ উদযাপন তেজগাঁওয়ে মানব কঙ্কাল চোর চক্রের চার সদস্য গ্রেফতার গোমস্তাপুরে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উদযাপন জগন্নাথপুরে ব্র্যাকের উদ্যোগে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি সচেতনতামূলক সভা চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার, ২২ সন্ত্রাসী আটক রাজবাড়ীর বহরপুর বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ২১টি দোকান পুড়ে কোটি টাকার ক্ষতি নওগাঁর বদলগাছী শশান ঘাটে রাজমিস্ত্রির মরদেহ উদ্ধার বান্দরবান লামায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের উদ্বোধন চট্টগ্ৰামের সড়ক দুর্ঘটনায় ফুডপান্ডা ডেলিভারিম্যান নিহত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রাজশাহী বিভাগীয় ইফতার ও দোয়া মাহফিল গুরুদাসপুর–বড়াইগ্রাম সীমান্তে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার লামায় ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং কার্যক্রমের উদ্বোধন

ঝুঁকিতে মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি

সাইফুল ইসলাম রাজু
  • আপলোডের সময় : শুক্রবার, মার্চ ১৩, ২০২৬,
ঝুঁকিতে মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি
ঝুঁকিতে মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি

ঝুঁকিতে মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি

সাইফুল ইসলাম রাজু
স্টাফ রিপোর্টার

শীতলক্ষ্যা নদীর শান্ত স্রোত আজও বয়ে চলে মুড়াপাড়ার পাশ দিয়ে। নদীর তীরে দাঁড়িয়ে থাকা বিশাল এক দালান যেন নীরবে সময়ের দিকে তাকিয়ে আছে। লালচে ইট, খসে পড়া দেয়াল আর ছাদ ফুঁড়ে ওঠা আগাছা—সব মিলিয়ে মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি ধীরে ধীরে ইতিহাসের এক বিষণ্ন প্রতিচ্ছবিতে পরিণত হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার মুড়াপাড়ায় অবস্থিত এই জমিদার বাড়ি কেবল একটি স্থাপনা নয়; এটি বাংলার জমিদারি যুগের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্থাপত্য ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। সবুজ-শ্যামল মুড়াপাড়া গ্রামে দাঁড়িয়ে থাকা এই প্রাসাদ একসময় ছিল ক্ষমতা, প্রভাব ও ঐশ্বর্যের প্রতীক। এখন তা অবহেলা আর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে দাঁড়িয়ে।

ইতিহাসের পাতায় মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি

ইতিহাস থেকে জানা যায়, নাটোরের রাজার বিশ্বস্ত কর্মচারী বাবু রামরতন ব্যানার্জীর হাত ধরেই মুড়াপাড়ায় জমিদারির সূচনা। সততার পুরস্কার হিসেবে পাওয়া জায়গিরের ওপর ১৮৮৯ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন এই জমিদারি। পরে তার ছেলে বিজয় চন্দ্র ব্যানার্জী জমিদারির পরিধি আরও বিস্তৃত করেন।

১৯০৯ সালে বিজয় চন্দ্র ব্যানার্জীর মৃত্যুর পর তার বড় ছেলে জগদীশ চন্দ্র ব্যানার্জী জমিদার বাড়িটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেন। তিনি ছিলেন এলাকার একজন প্রভাবশালী জমিদার। তার সময়েই জমিদারি শাসনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে ওঠে এই বিশাল প্রাসাদ।

স্থাপত্যে ঐশ্বর্য

প্রায় ৫২ বিঘা জমির ওপর নির্মিত এই বিশাল জমিদার বাড়িটি প্রায় ১৭৮ বছরের পুরোনো। দোতলা ভবনটিতে রয়েছে মোট ৯৫টি কক্ষ। এর মধ্যে শোয়ার ঘর, দরবার হল, নাচঘর, আস্তাবল, উপাসনালয়, ভাণ্ডার ও কাচারি ঘর উল্লেখযোগ্য।

বিশাল প্রধান ফটক পেরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে হয়। অন্দর মহলে রয়েছে আরও দুটি ফটক। শেষ ফটকের ভেতরে নারীদের গোসলের জন্য ছিল শানবাঁধানো পুকুর, যা চারদিকে উঁচু দেয়াল দিয়ে ঘেরা ছিল। বাইরের লোকদের সেখানে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল।

বাড়ির সামনে রয়েছে আরেকটি বড় পুকুর, যার চারপাশে নকশা করা ঢালাই লোহার গ্রিল এবং চারটি শানবাঁধানো ঘাট রয়েছে। মূলত এটি তৈরি করা হয়েছিল বাড়ির সৌন্দর্যবর্ধন এবং অতিথিদের ব্যবহারের জন্য।

সদর দরজার সামনে দিয়ে বয়ে গেছে শীতলক্ষ্যা নদী। সে সময় যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল নৌপথ। সে কারণেই সম্ভবত বাড়িটি নদীর তীর ঘেঁষে নির্মাণ করা হয়েছিল।

দেশভাগের পর বদলে যাওয়া নিয়তি

১৯৪৭ সালের দেশভাগ মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ির ইতিহাসে বড় পরিবর্তন আনে। জমিদার জগদীশ চন্দ্র ব্যানার্জী দেশ ছেড়ে কলকাতায় চলে গেলে বাড়িটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে।

১৯৪৮ সালে তৎকালীন সরকার এখানে হাসপাতাল ও কিশোরী সংশোধন কেন্দ্র চালু করে। পরে ১৯৬৬ সালে শুরু হয় শিক্ষা কার্যক্রম। স্বাধীনতার পর ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ভবনটিকে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। বর্তমানে এটি মুড়াপাড়া সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

সংরক্ষণের অভাবে বিপন্ন ঐতিহ্য

সময় বদলেছে, কিন্তু অবহেলার চিত্র বদলায়নি। ছাদে ফাটল, দেয়ালে ধস, জানালার কাঠ ভেঙে পড়ছে। অনেক কক্ষে গাছের শিকড় ঢুকে পড়েছে। ছাদ ফুঁড়ে বেরিয়ে আসা গাছ যেন ইতিহাসের বুক চিরে ওঠা আর্তনাদ।

কলেজের অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান জানান, ‘সংস্কারের জন্য আমরা একাধিকবার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি। ভবনের কিছু অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় কয়েকটি শ্রেণিকক্ষ বন্ধ রাখতে হয়েছে। তবে যেহেতু ভবনটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে, তাই সরাসরি সংস্কার করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘পাশেই আটতলা একটি নতুন ভবন নির্মাণাধীন রয়েছে। সেটি শেষ হলে কলেজের কার্যক্রম সেখানে স্থানান্তর করা হবে। তখন ঐতিহাসিক ভবনটি সংরক্ষণের সুযোগ তৈরি হবে।’

স্থানীয়দের ক্ষোভ

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাইরের দেয়াল রং করে সাজানো হলেও ভেতরের অবস্থা খুবই নাজুক। নেই কোনো পূর্ণাঙ্গ পর্যটন কেন্দ্র বা কার্যকর সংরক্ষণ উদ্যোগ।

তাদের মতে, মুড়াপাড়া জমিদার বাড়িকে ঘিরে একটি পূর্ণাঙ্গ ঐতিহাসিক পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা গেলে স্থানীয় অর্থনীতি ও সংস্কৃতিতে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হতে পারে।

ইতিহাসপ্রেমীদের অভিমত

ইতিহাসপ্রেমীরা মনে করেন, ইতিহাস সংরক্ষণ মানে শুধু অতীতকে আঁকড়ে ধরা নয়—এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পরিচয়ের ভিত্তি গড়ে তোলা। একটি জাতি যখন তার স্থাপত্য ও সাংস্কৃতিক নিদর্শন হারায়, তখন সে নিজের শেকড়ও হারায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মুড়াপাড়া জমিদার বাড়িকে জাতীয় ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা দিয়ে দ্রুত পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। তা না হলে একদিন এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি কেবল ইতিহাসের পাতাতেই সীমাবদ্ধ হয়ে যাবে।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ সংক্রান্ত

আমার সকাল ২৪  ই – পেপার

 © All rights reserved 2026 Amar Sokal 24 Newspaper