জুবিন গার্গ নেই, সুরে আজও বেঁচে আছেন তিনি

প্রতিনিধির নাম:
  • আপলোডের সময় : Saturday, September 19, 2026,
জুবিন গার্গ নেই, সুরে আজও বেঁচে আছেন তিনি
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন

আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।
জুবিন গার্গ নেই, সুরে আজও বেঁচে আছেন তিনি

জুবিন গার্গ নেই, সুরে আজও বেঁচে আছেন তিনি

ডেস্ক রিপোর্ট
আমার সকাল ২৪
বিনোদন

উত্তর-পূর্ব ভারতের সংগীতজগতের চিরস্মরণীয় এক নাম জুবিন গার্গ। আসামের লোকসংস্কৃতি থেকে বাংলা ও হিন্দি—বহু ভাষার গানে নিজের স্বতন্ত্র কণ্ঠ ও সুরের মাধ্যমে অগণিত শ্রোতার হৃদয় জয় করেছিলেন তিনি। গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে আকস্মিক মৃত্যুর পর পেরিয়ে গেছে এক বছর। শারীরিকভাবে তিনি নেই, কিন্তু তার সৃষ্টি ও সুর এখনো ভক্তদের হৃদয়ে সমানভাবে জীবন্ত।

২০০৬ সালে মুক্তি পাওয়া ‘গ্যাংস্টার’ সিনেমার ‘ইয়া আলী’ গানটি জুবিন গার্গকে বলিউডের মূলধারার শ্রোতাদের কাছে ব্যাপক পরিচিত করে তোলে। গানটি তাকে রাতারাতি জনপ্রিয়তার শিখরে নিয়ে গেলেও তার সংগীতের মূল শেকড় ছিল আসামের মাটি, মানুষ ও লোকসংস্কৃতির গভীরে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন

আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।

১৯৯২ সালে অসমীয়া ভাষার অ্যালবাম ‘অনামিকা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে তার পেশাদার সংগীতযাত্রার সূচনা হয়। এরপর লোকগান, রক, পপসহ নানা ধারায় নিজের সৃষ্টিশীলতার পরিচয় দেন তিনি। কোনো একটি নির্দিষ্ট সংগীতধারায় নিজেকে সীমাবদ্ধ না রেখে একের পর এক গান উপহার দিয়েছেন শ্রোতাদের। ‘মায়াবিনী’র মতো সৃষ্টি তাকে আসামের ঘরে ঘরে আরও জনপ্রিয় করে তোলে।

দীর্ঘ সংগীতজীবনে প্রায় ৪০টি ভাষায় হাজার হাজার গান রেকর্ড করেছেন জুবিন। অসমীয়া ও হিন্দির পাশাপাশি বাংলা গানেও তার কণ্ঠ পেয়েছিল আলাদা আবেদন। ‘বোঝেনা সে বোঝেনা’, ‘পিয়া রে’ ও ‘মন মানে না’র মতো জনপ্রিয় বাংলা গান তার বহুমাত্রিক সংগীতপ্রতিভার পরিচয় বহন করে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন

আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।
সাদা চুলে প্রকাশ্যে ৬১ বছরের আমির খান সাদা চুলে প্রকাশ্যে ৬১ বছরের আমির খান

শুধু গায়ক নন, জুবিন গার্গ ছিলেন সুরকার, গীতিকার, অভিনেতা ও পরিচালকও। ‘মিশন চায়না’ ও ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা’র মতো চলচ্চিত্রে তার বহুমুখী প্রতিভার প্রকাশ ঘটেছে। বলিউডে সাফল্য পাওয়ার পরও বাণিজ্যিক সংগীতের গণ্ডিতে নিজেকে আটকে রাখেননি। বরং নিজের আঞ্চলিক সংস্কৃতি, ভাষা ও মৌলিক সৃষ্টিকে বরাবরই গুরুত্ব দিয়েছেন।

সংগীতের বাইরে সামাজিক নানা বিষয়েও সক্রিয় ছিলেন জুবিন। পরিবেশ রক্ষা, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের পাশে দাঁড়ানোসহ বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে তার সরব উপস্থিতি তাকে সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি নিয়ে যায়। জনপ্রিয় তারকা হওয়ার পাশাপাশি মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রেখেছিলেন তিনি।

বাংলা সংস্কৃতির প্রতিও তার ছিল বিশেষ টান। বাংলার সঙ্গে নিজের আত্মিক সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে তিনি নিজেকে গর্বের সঙ্গে ‘আধা বাঙালি’ বলে পরিচয় দিতেন। ফলে আসামের পাশাপাশি বাংলাভাষী শ্রোতাদের কাছেও তিনি হয়ে উঠেছিলেন আপনজন।

সিঙ্গাপুরে তার আকস্মিক মৃত্যু এবং পরবর্তী তদন্ত ঘিরে নানা আলোচনা ভক্তদের মধ্যে গভীর শোক তৈরি করে। তার শেষযাত্রায় গুয়াহাটির কামারকুচিতে মানুষের ঢল নেমেছিল। সেই উপস্থিতিই যেন বলে দিয়েছিল, জুবিন শুধু একজন জনপ্রিয় শিল্পী ছিলেন না; তিনি হয়ে উঠেছিলেন একটি প্রজন্মের আবেগ ও স্মৃতির অংশ।

এক বছর পেরিয়ে গেলেও জুবিন গার্গের কণ্ঠ থেমে যায়নি শ্রোতাদের মনে। তার গান যখনই বাজে, ফিরে আসে তারুণ্যের স্মৃতি, আসামের মাটির গন্ধ আর এক বহুমাত্রিক শিল্পীর সৃষ্টির জগৎ।

জুবিন নেই, কিন্তু তার সুর আছে। আর সেই সুরই তাকে বারবার ফিরিয়ে আনবে শ্রোতাদের কাছে—গানের ভেতর, স্মৃতির ভেতর, ভালোবাসার ভেতর।

শেয়ার করুন:

লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?

মন্তব্য করতে সাইন-আপ বা লগইনের প্রয়োজন নেই - সরাসরি আপনার মতামত লিখুন।

একটি মন্তব্য লিখুন

আমার সকাল ২৪  ই – পেপার

এ সংক্রান্ত