জগন্নাথপুরে বাড়ছে হামের প্রকোপ, ওষুধ সংকটে বিপাকে রোগীরা
- আপলোডের সময় : Sunday, September 6, 2026,

জগন্নাথপুরে বাড়ছে হামের প্রকোপ, ওষুধ সংকটে বিপাকে রোগীরা
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। প্রতিদিন নতুন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা নিতে আসায় সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও নার্সরা। এর মধ্যে হামের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় কিছু প্রাথমিক ওষুধের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় রোগীদের বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে জগন্নাথপুর উপজেলায় শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি এর প্রকোপ আরও বেড়েছে। প্রতিদিনই হাম আক্রান্ত শিশু ও অন্যান্য রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছেন। রোগীর সংখ্যা বাড়লেও জনবল সংকটের কারণে সেবা দিতে গিয়ে চিকিৎসক ও নার্সদের চাপ সামলাতে হচ্ছে।
এদিকে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, হামের চিকিৎসায় ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় কিছু ওষুধের মজুত ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। চিকিৎসকরা প্রেসক্রিপশন দিলেও সরকারি সরবরাহ না থাকায় রোগীদের বাইরে থেকে ওষুধ কিনে আনতে হচ্ছে। এতে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারের রোগীরা বেশি সমস্যায় পড়েছেন।
হামে আক্রান্ত হয়ে তিন দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি ১১ মাস বয়সী ফারহান আহমেদ। তার স্বজন ফাহমিদা বেগম বলেন, “আমি রোগী নিয়ে এসেছি, ওষুধ নেই। আমরা গরিব মানুষ, ওষুধ কেনার টাকা নাই।”
আরেক রোগীর স্বজন শাহিন মিয়া বলেন, “আমার মেয়ে হামের রোগী। নার্স বাইরে থেকে ওষুধ কিনে আনতে বলেছেন। আমি বলেছি, টাকা নাই।”
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাসপাতালের নার্স মৌসুমী। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য নয়, আমি এমন কথা বলিনি। আমি বলেছি, বাইরে থেকে ওষুধ আনেন।”
হাসপাতালের নার্স সঞ্চিতা বলেন, “হামের রোগী বেশি, প্রতিনিয়ত বাড়ছে। আমরা সেবা দিয়ে যাচ্ছি।”
ওষুধের সংকটের বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. তানজিম আহমেদ বলেন, “হামের ওষুধ নেই, যা ছিল, শেষ হয়ে গেছে। হঠাৎ রোগী বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যমান মজুত দ্রুত শেষ হয়ে গেছে। ওষুধের নতুন চাহিদাপত্র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। সরবরাহ মিললেই এ সমস্যার সমাধান হবে।”
জগন্নাথপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কৃপেশ রায় বলেন, “হামের রোগী বেশি। ওষুধ ছিল, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদা দিয়েছি।”



















লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?
মন্তব্য করতে সাইন-আপ বা লগইনের প্রয়োজন নেই - সরাসরি আপনার মতামত লিখুন।