চড়া দামের আশায় নীলফামারীতে আগাম আলু চাষে ব্যস্ত কৃষক
- আপলোডের সময় : Monday, September 28, 2026,

চড়া দামের আশায় নীলফামারীতে আগাম আলু চাষে ব্যস্ত কৃষক
মো. মনিরুজ্জামান
বিশেষ প্রতিনিধি, আমার সকাল ২৪
কিশোরগঞ্জ, নীলফামারী
শীত আসার আগেই বাজারে নতুন আলু তুলে ভালো দাম পাওয়ার আশায় নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে আগাম আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। আমন ধান কাটার পরপরই উঁচু জমিতে আলু রোপণে নেমেছেন তাঁরা। এতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠে বেড়েছে কৃষক ও কৃষিশ্রমিকদের কর্মচাঞ্চল্য।
গত মৌসুমে আলুর দাম কম থাকায় অনেক কৃষককে লোকসান গুনতে হয়েছিল। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবার অনুকূল আবহাওয়া, তুলনামূলক কম বীজের দাম ও সারের স্বাভাবিক সরবরাহকে কাজে লাগিয়ে আগেভাগেই আলু চাষ শুরু করেছেন কৃষকেরা।
নীলফামারী কৃষিনির্ভর জেলা হিসেবে পরিচিত। এখানকার উর্বর দোআঁশ ও বেলে-দোআঁশ মাটিতে বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জ উপজেলা দীর্ঘদিন ধরে আগাম আলু চাষের জন্য পরিচিত। এ অঞ্চলের কৃষকেরা শীতের আগেই নতুন আলু বাজারে তুলে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়ার চেষ্টা করেন।
কৃষকেরা জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগাম আলু প্রতি কেজি ৯০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে পারে। স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় ‘সেভেন’ জাতের আলু রোপণের ৫০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যেই তোলা যায়। বাজারে নতুন আলুর চাহিদা ও দাম তুলনামূলক বেশি থাকায় আগাম আলু চাষে কৃষকদের আগ্রহও বাড়ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বাহাগিলী, নিতাই, পুটিমারী, গাড়াগ্রাম ও রণচণ্ডীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠে আগাম আমন ধান কাটার পরপরই জমি প্রস্তুত করে আলু রোপণ করছেন কৃষকেরা। কেউ ইতোমধ্যে আলু রোপণ শেষ করেছেন, আবার কেউ জমি প্রস্তুতের কাজ করছেন। ফলে মাঠে বেড়েছে কৃষক ও কৃষিশ্রমিকদের ব্যস্ততা। একই সঙ্গে শ্রমিকের চাহিদা ও মজুরিও বেড়েছে।
বাহাগিলী ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুটি পশ্চিমপাড়া গ্রামের কৃষক মিনারুল ইসলাম বলেন, এবার তিনি ৭০ শতাংশ জমিতে আগাম আলু রোপণ করছেন। জমি ইজারা, হালচাষ, শ্রমিক ও কৃষি উপকরণসহ আলু তোলা পর্যন্ত তাঁর প্রায় ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা খরচ হতে পারে। বাজারদর ভালো থাকলে প্রতি কেজি আলু ৯০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে পারে বলে আশা করছেন তিনি।
একই এলাকার কৃষক নাজমুল ইসলাম বলেন, গত বছর বিঘাপ্রতি আলু চাষে বেশ লোকসান হয়েছিল। এবার সেই লোকসান পুষিয়ে নিতে আগাম আলু চাষ করছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ভালো ফলনের পাশাপাশি ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন তিনি।
পুটিমারী ইউনিয়নের কৃষক মনছুর আলী বলেন, প্রতি বছরই কিশোরগঞ্জ উপজেলায় আগাম আলু চাষ হয়। এবার তিনি দুই বিঘা জমিতে আলু রোপণ করেছেন। হিমাগার থেকে আলু এনে বীজ হিসেবে ব্যবহার করেছেন। এতে খরচ কিছুটা বেশি হয়েছে। তবে বাজারে ভালো দাম পাওয়া গেলে লাভ হবে বলে আশা করছেন তিনি।
কিশোরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান আলম বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৪ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে আগাম আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া এবং সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকেরা ভালো বাজারদর পেয়ে লাভবান হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।



















লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?
মন্তব্য করতে সাইন-আপ বা লগইনের প্রয়োজন নেই - সরাসরি আপনার মতামত লিখুন।