
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ৩০ মে ২০২৬
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ব্যবসা খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও বহুমুখী করতে প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পায়ন এবং কৌশলগত বৈদেশিক বাণিজ্য অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন চীনে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী এমদাদুল নাঈম।
তিনি বর্তমানে চীনের নানজিং ইউনিভার্সিটি অব অ্যারোনটিক্স অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোনটিক্স (NUAA)-এ ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিষয়ে স্নাতক পর্যায়ে অধ্যয়ন করছেন। যদিও তার স্নাতক শিক্ষা এখনো সম্পন্ন হয়নি, তবুও বিশ্বের অন্যতম শিল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির দেশ চীনে অধ্যয়নের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ব্যবসা খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন পরামর্শ তুলে ধরেছেন।
এমদাদুল নাঈম বলেন, “বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের বড় অংশ এখনো তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়াতে হবে এবং উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ করতে হবে।”
তিনি মনে করেন, চীনের স্পেশাল ইকোনমিক জোন (SEZ) মডেল অনুসরণ করে বাংলাদেশে উচ্চপ্রযুক্তির যন্ত্রাংশ, বিমানশিল্প-সম্পর্কিত পণ্য এবং ডিজিটাল সাপ্লাই চেইনভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।
তার মতে, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো জরুরি। একই সঙ্গে বিদেশে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানোর সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।
এমদাদুল আরও বলেন, “পদ্মা সেতু রেল সংযোগ, কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণসহ বড় অবকাঠামো প্রকল্পগুলোতে চীনের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা কাজে লাগানো গেলে বাংলাদেশ লজিস্টিকস ও বিমানপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।”
তিনি মনে করেন, শিক্ষা, শিল্প এবং সরকারের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করা গেলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে পৌঁছাতে পারবে।
বিশ্লেষকদের মতে, রপ্তানি বাজার ও পণ্যের বহুমুখীকরণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার মাধ্যমে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে বৈশ্বিক বাণিজ্যে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে।