ঘুমের মধ্যে পায়ে খিঁচুনি কেন হয়? জানুন কারণ ও করণীয়

প্রতিনিধির নাম:
  • আপলোডের সময় : Monday, August 24, 2026,
ঘুমের মধ্যে পায়ে খিঁচুনি কেন হয়? জানুন কারণ ও করণীয়
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন

আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।
ঘুমের মধ্যে পায়ে খিঁচুনি কেন হয়? জানুন কারণ ও করণীয়

ঘুমের মধ্যে পায়ে খিঁচুনি কেন হয়? জানুন কারণ ও করণীয়

গভীর রাতে হঠাৎ পায়ের পেশিতে তীব্র খিঁচুনি বা টনটনে ব্যথায় ঘুম ভেঙে যাওয়ার অভিজ্ঞতা অনেকেরই রয়েছে। ব্যথা এতটাই তীব্র হতে পারে যে কয়েক মুহূর্তের জন্য পা সোজা করা, বাঁকানো কিংবা নড়াচড়া করাও কঠিন হয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ মাসাজ বা পেশিতে হাত বুলিয়ে দিলে ব্যথা কমে গেলেও অনেক সময় এর অস্বস্তি দীর্ঘক্ষণ থেকে যায়।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এ সমস্যাকে বলা হয় নকটারনাল লেগ ক্র্যাম্প (Nocturnal Leg Cramp)। এটি মূলত রাতে পায়ের পেশিতে হঠাৎ অনিচ্ছাকৃত সংকোচন বা খিঁচুনি। সাধারণত কাফ মাসলে বেশি দেখা গেলেও উরু কিংবা পায়ের পাতাতেও এমন খিঁচুনি হতে পারে।

আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব ফ্যামিলি ফিজিশিয়ানসের তথ্য অনুযায়ী, জীবনের কোনো না কোনো সময়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ এ ধরনের পেশির খিঁচুনিতে ভোগেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নকটারনাল লেগ ক্র্যাম্প হওয়ার প্রবণতাও বাড়তে পারে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন

আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।

কেন হয় নকটারনাল লেগ ক্র্যাম্প?

অনেক ক্ষেত্রেই রাতের পায়ের খিঁচুনির নির্দিষ্ট কারণ চিহ্নিত করা যায় না। তবে কিছু বিষয় এ সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। যেমন—

  • শরীরে পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন
  • শরীরে প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদানের ভারসাম্যহীনতা
  • অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমের কারণে পেশিতে ক্লান্তি
  • দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা বা একই ভঙ্গিতে বসে থাকা
  • বয়সজনিত পেশি ও স্নায়ুর পরিবর্তন
  • ডায়াবেটিস, কিডনি বা স্নায়ুর কিছু সমস্যা
  • কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

রাতে পায়ে বেশি খিঁচুনি হয় কেন?

ঘুমের সময় শরীর বিশ্রামে থাকলেও পেশি ও স্নায়ুর কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ থাকে না। দিনের শারীরিক পরিশ্রমের কারণে পেশিতে জমে থাকা ক্লান্তি, ঘুমের সময় পায়ের অবস্থান এবং স্নায়ু থেকে পেশিতে অস্বাভাবিক সংকেত—এসব কারণে রাতে হঠাৎ পেশি সংকুচিত হয়ে খিঁচুনি দেখা দিতে পারে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন

আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।

বয়স বাড়ার সঙ্গে পেশির নমনীয়তা কমে যাওয়া এবং কিছু ক্ষেত্রে স্নায়ু ও রক্তনালির পরিবর্তনও এ সমস্যার প্রবণতা বাড়াতে পারে।

মেলাজমা কেন হয়? কারণ, লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধের উপায় মেলাজমা কেন হয়? কারণ, লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধের উপায়

খিঁচুনি শুরু হলে কী করবেন?

হঠাৎ পায়ে খিঁচুনি ধরলে আতঙ্কিত না হয়ে ধীরে ধীরে পেশি শিথিল করার চেষ্টা করতে পারেন। যেমন—

  • আক্রান্ত পেশিতে হালকা করে মাসাজ করুন।
  • পা সোজা করে পায়ের আঙুল নিজের শরীরের দিকে টেনে হালকা স্ট্রেচ করুন।
  • ব্যথা কিছুটা কমে গেলে ধীরে ধীরে হাঁটুন।
  • আক্রান্ত পেশিতে উষ্ণ সেঁক দিলে অনেকের আরাম পাওয়া যায়।

তবে জোর করে পেশি টান দেওয়া বা অতিরিক্ত চাপ দেওয়া উচিত নয়।

কীভাবে পায়ের খিঁচুনির ঝুঁকি কমাবেন?

কিছু সহজ অভ্যাস এ সমস্যা কমাতে সহায়ক হতে পারে। যেমন—

  • পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
  • ঘুমানোর আগে কয়েক মিনিট কাফ মাসলের হালকা স্ট্রেচিং করুন।
  • দীর্ঘ সময় একই অবস্থায় বসে বা দাঁড়িয়ে থাকা এড়িয়ে চলুন।
  • নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ডের আগে ও পরে হালকা স্ট্রেচিং করুন।
  • আরামদায়ক ও উপযুক্ত জুতা ব্যবহার করুন।
  • অতিরিক্ত পরিশ্রমের পর পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

মাঝেমধ্যে পায়ে খিঁচুনি হওয়া সাধারণ ঘটনা হতে পারে। তবে সমস্যা যদি ঘন ঘন হয় কিংবা অন্য কোনো উপসর্গের সঙ্গে দেখা দেয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

বিশেষ করে—

  • সপ্তাহে কয়েকবার খিঁচুনি হলে
  • জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনার পরও সমস্যা না কমলে
  • খিঁচুনির কারণে নিয়মিত ঘুমের ব্যাঘাত ঘটলে
  • পা ফুলে গেলে, লাল হয়ে গেলে বা অস্বাভাবিক গরম অনুভূত হলে
  • পায়ে অসাড়তা বা শিরশিরে অনুভূতি থাকলে
  • নতুন কোনো ওষুধ শুরু করার পর খিঁচুনি দেখা দিলে
  • খিঁচুনির পর দীর্ঘ সময় পেশিতে দুর্বলতা থাকলে

এ ধরনের ক্ষেত্রে মূল কারণ শনাক্ত করতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

শেষ কথা

রাতে পায়ে খিঁচুনি হওয়া বেশিরভাগ সময় সাময়িক এবং গুরুতর নয়। পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত হালকা স্ট্রেচিং, অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম অনেক ক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে। তবে সমস্যা নিয়মিত হলে বা পায়ে ফোলা, অসাড়তা, দুর্বলতা কিংবা অন্য কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আমার সকাল ২৪  ই – পেপার

এ সংক্রান্ত