
আরিফ গজনবী, প্রতিনিধি, রামপাল (বাগেরহাট):
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলা-এর গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ মোংলা–ঘষিয়াখালী চ্যানেল-এর একটি অংশে নদীর চরে মাটি ফেলে অবৈধভাবে বাঁধ নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, পরিকল্পিতভাবে নদীর চর ভরাট করে কয়েক হাজার একর জমি দখলের চেষ্টা চলছে। এতে নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি নদীর জেগে ওঠা চরে ধীরে ধীরে মাটি ফেলে জায়গা ভরাট করছে এবং সেখানে বাঁধ নির্মাণ করছে। এর ফলে চ্যানেলের পানিপ্রবাহ সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের কৃষিজমি, জলাশয় ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মোংলা–ঘষিয়াখালী চ্যানেল-এর বিভিন্ন স্থানে নদীর চর জেগে উঠছে। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি প্রভাবশালী মহল নদীর চরে মাটি ফেলে জমি দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সরকারি বিধি অনুযায়ী নদীর তীরবর্তী এলাকা বা পানিপ্রবাহের স্থানে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবুও ওই নিয়ম উপেক্ষা করে বাঁধ নির্মাণের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রামপাল উপজেলা-এর সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিৎ চক্রবর্তী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি স্থানীয়দের অভিযোগ শুনে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, নদী বা চ্যানেলের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে কোনো ধরনের অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ আইনগতভাবে দণ্ডনীয় অপরাধ। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত অবৈধ বাঁধ অপসারণ করে মোংলা–ঘষিয়াখালী চ্যানেল-এর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
প্রতিবেদক:
আরিফ গজনবী
রামপাল, বাগেরহাট
মোবাইল: ০১৬২৩৩৫৫৮৩৮