গ্রেপ্তার সিফাত আব্দুল্লাহ আসলে কোন দলের সমর্থক?
- আপলোডের সময় : Monday, September 7, 2026,

গ্রেপ্তার সিফাত আব্দুল্লাহ আসলে কোন দলের সমর্থক?
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিদ্যুতের অস্বাভাবিক বিল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ এবং সরকারপ্রধান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে গাজীপুরের সিফাত আব্দুল্লাহকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। তবে গ্রেপ্তারের পর থেকেই তার রাজনৈতিক পরিচয় ও মামলার আইনি ভিত্তি নিয়ে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
২০ বছর বয়সী সিফাত আব্দুল্লাহ রাজধানীর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায়। বর্তমানে তিনি গাজীপুর মহানগরের গাছা থানার দক্ষিণ খাইলকুট টিনের মসজিদ এলাকায় মা ও বোনের সঙ্গে বসবাস করেন বলে একটি ভিডিও প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, সিফাতের বাবা মোহাম্মদ সিকান্দার আলী দীর্ঘদিন ধরে দুবাইয়ে অসুস্থ ও কর্মহীন অবস্থায় রয়েছেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, পারিবারিক অসুস্থতা ও লোডশেডিংয়ের মধ্যে মাত্র দুই মাসে প্রায় ১০ হাজার টাকার বিদ্যুৎ বিল পাওয়ায় মানসিক চাপ থেকে সিফাত ওই ভিডিওটি তৈরি করেন।
প্রায় এক মিনিট ২৪ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে তিনি বিদ্যুৎ বিল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি সরকারপ্রধান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভিডিওটি প্রকাশের পর বৃহস্পতিবার রাতে সিফাতকে আটক করে পুলিশ। পরদিন শুক্রবার দুপুরে তাকে গাজীপুর মহানগর আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রাব্বানী।
বিদ্যুৎ বিল নিয়ে তদন্তে কী পাওয়া গেল?
সিফাতের পরিবারের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ বিলকে ‘ভৌতিক’ দাবি করা হলেও গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তদন্তে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সিফাতদের বাড়ির তিনটি মিটার মিলিয়ে যে বিদ্যুৎ বিল এসেছে, তা স্বাভাবিক ছিল। তদন্তে বিলের হিসাবে কোনো অসংগতি পাওয়া যায়নি বলেও জানানো হয়েছে।
সিফাত কোন রাজনৈতিক দলের সমর্থক?
গ্রেপ্তারের পর সিফাতের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে দুই ধরনের দাবি সামনে এসেছে।
গাছা থানার ওসি গোলাম রাব্বানীর দাবি, সিফাত নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য এবং গোপন নাশকতার অর্থদাতা।
তবে এই দাবির বিপরীত বক্তব্য দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা। তাদের দাবি, সিফাত জুলাই অভ্যুত্থানের একজন সক্রিয় যোদ্ধা।
সিফাতকে মুক্তির দাবিতে এনসিপির নেতাকর্মীরা থানায় অবস্থান নেন। দলটির মুখ্য সংগঠক আলী নাসের খান বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরারও হুঁশিয়ারি দেন।
অর্থাৎ, সিফাতের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যে স্পষ্ট মতবিরোধ রয়েছে। তার দলীয় পরিচয় বা সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
মামলা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন
সিফাতকে যে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, সেটি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ২৭ জুন নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কথিত মিছিলের ঘটনায় দায়ের করা মামলার কোনো এজাহারে সিফাতের নাম ছিল না। এরপরও তাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
আইনি বিষয়টি নিয়েও ভিন্নমত রয়েছে আইনজীবীদের মধ্যে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসানের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান সাইবার সুরক্ষা আইনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারপ্রধানের বিরুদ্ধে মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার জন্য আগের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো নির্দিষ্ট কোনো মানহানির ধারা নেই। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি দণ্ডবিধির আওতায় ব্যক্তিগতভাবে মানহানির মামলা করতে পারেন বলে তিনি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মঞ্জিল মোরশেদ অভিযোগ করেছেন, সন্ত্রাসবিরোধী আইনটি অতীতের মতো রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তার মতে, পুরোনো একটি মামলায় সিফাতকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়ে থাকলে সেটি পুলিশের অতিরিক্ত উৎসাহের বহিঃপ্রকাশ হতে পারে।
তবে সিফাতের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং তাকে কোন আইনি ভিত্তিতে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে—এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্যই বর্তমানে মামলার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর শাহিন মাহমুদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হওয়ার খবরও সামনে এসেছিল।
এ ছাড়া গত জুনে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নিয়ে মানহানিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগে চার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়েরের ঘটনাও আলোচনায় আসে।
সব মিলিয়ে সিফাত আব্দুল্লাহর গ্রেপ্তারকে ঘিরে তার রাজনৈতিক পরিচয়, বিদ্যুৎ বিলের প্রকৃত অবস্থা এবং কোন আইনি ধারায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে—এই তিনটি বিষয় নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে।



















লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?
মন্তব্য করতে সাইন-আপ বা লগইনের প্রয়োজন নেই - সরাসরি আপনার মতামত লিখুন।