খানসামায় ৬৫৭ বস্তা সার জব্দ, দুই ডিলারকে ৯০ হাজার টাকা জরিমানা
- আপলোডের সময় : Sunday, September 13, 2026,

খানসামায় ৬৫৭ বস্তা সার জব্দ, দুই ডিলারকে ৯০ হাজার টাকা জরিমানা
সাজ্জাদুর রহমান
বিশেষ প্রতিনিধি, আমার সকাল ২৪
দিনাজপুর
দিনাজপুরের খানসামায় অনুমোদিত সীমার বাইরে রাসায়নিক সার মজুতের অভিযোগে দুই সার ডিলারের গুদামে অভিযান চালিয়ে ৬৫৭ বস্তা সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুই ডিলারকে মোট ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে একটি গুদাম সিলগালা করা হয়।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, টংগুয়া বাজারের বিসিআইসি অনুমোদিত সার ডিলার প্রতিষ্ঠান মেসার্স আসাদুজ্জামান ট্রেডার্সের গুদাম থেকে ২০৭ বস্তা রাসায়নিক সার জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ৯৪ বস্তা ডিএপি, ৫৫ বস্তা ইউরিয়া ও ৫৮ বস্তা এমওপি সার রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির সার ডিলার আসাদুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে নজরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি ডিলার পয়েন্ট পরিচালনা করছিলেন। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জব্দ করা সার রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পাকেরহাট এলাকায় মেসার্স মহাদেব ট্রেডার্সের গুদামে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং উপজেলা কৃষি বিভাগের যৌথ অভিযানে ৪৫০ বস্তা সার জব্দ করা হয়। এর মধ্যে নোয়াপাড়া গ্রুপের ক্রয় করা ৩০০ বস্তা এমওপি, বিএডিসি গ্রুপের ৫০ বস্তা এমওপি এবং ১০০ বস্তা ডিএপি সার রয়েছে।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির মালিক ও বিএডিসির নিবন্ধিত সার ডিলার মহিতোষ চন্দ্র চন্দকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে গুদামটি সিলগালা করে দেওয়া হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদনান কবির উদয় এবং খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুজ্জামান সরকার। এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তারসহ থানা পুলিশ ও কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সার মজুত ও বিক্রির ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলতে ডিলারদের একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছে। এরপরও অনুমোদিত সীমার বাইরে সার সংরক্ষণ করায় কৃষকদের স্বার্থে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান সরকার জানান, টংগুয়া বাজার থেকে জব্দ করা ২০৭ বস্তা সার পরদিন স্থানীয় কৃষকদের কাছে সরকার নির্ধারিত ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করা হবে। বিক্রয়লব্ধ সমুদয় অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাকেরহাট থেকে জব্দ করা সারও প্রচলিত নিয়ম ও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কৃষকদের মধ্যে বিতরণের ব্যবস্থা করা হবে।



















লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?
মন্তব্য করতে সাইন-আপ বা লগইনের প্রয়োজন নেই - সরাসরি আপনার মতামত লিখুন।