
বিশেষ প্রতিনিধি : মো. মনিরুজ্জামান
কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী)
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে অবৈধ সুদের ব্যবসা। প্রভাবশালী সুদখোরদের দৌরাত্ম্যে শান্তিতে নেই সাধারণ মানুষ। সংসারের প্রয়োজনে কিংবা মেয়ের বিয়ের মতো সামাজিক দায়িত্ব পালনে বাধ্য হয়ে সুদের ফাঁদে পা দিয়ে সর্বস্ব হারাচ্ছে বহু পরিবার।
এলাকায় এমনই এক হৃদয়বিদারক ঘটনার কথা জানান এক ভুক্তভোগী। তিনি বলেন, দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত অবস্থায় মেয়ের বিয়ের জন্য অর্থের প্রয়োজন হলে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে সাহায্য চাইতে যান। ওই ব্যক্তি ৩০ হাজার টাকা ঋণ দিতে রাজি হলেও শর্ত দেন—ব্যাংকের চেক, স্ট্যাম্প ও জমির কাগজ বন্ধক রাখতে হবে এবং প্রতিদিন ৬০০ টাকা করে সুদ দিতে হবে।
মেয়ের বিয়ে সামনে থাকায় নিরুপায় হয়ে ওই শর্ত মেনেই টাকা নেন তিনি। কিন্তু বিয়ের পর সংসার চালানোর মতো এক টাকাও হাতে না থাকলেও প্রতিদিন সন্ধ্যায় ৬০০ টাকা সুদ দিতে বাধ্য হন। কিছুদিন পর সুদের টাকা দিতে ব্যর্থ হলে সুদখোর ব্যক্তি তাকে হুমকি দিতে শুরু করে।
ভুক্তভোগী জানান, অনেক অনুনয়-বিনয় করেও কোনো সময় পাওয়া যায়নি। একপর্যায়ে বন্ধক রাখা কাগজের জোরে তার কাছ থেকে ৬ শতক জমি লিখে নিতে বাধ্য করা হয়। প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তার পক্ষে দাঁড়ায়নি। সব হারিয়ে আজ তিনি পরিবার নিয়ে দিশেহারা—কোথায় থাকবেন, কীভাবে চলবেন, কোনো দিকনির্দেশনা নেই।
স্থানীয়দের দাবি, কিশোরগঞ্জ উপজেলায় এমন শত শত পরিবার রয়েছে যারা সুদের ফাঁদে পড়ে বাড়ি-জমি, সম্মান ও স্বাভাবিক জীবন হারিয়েছে। অথচ এসব সুদখোর সমাজে নিজেদের ‘সমাজসেবক’ ও ‘ভদ্র মানুষ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে।
ইসলামের দৃষ্টিতে সুদ সম্পূর্ণ হারাম ও কবিরা গুনাহ। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে সুদের ভয়াবহ পরিণতির কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। হাদিসে বলা হয়েছে, সুদের গুনাহের মাত্রা এতই ভয়াবহ যে এর সর্বনিম্ন অপরাধ নিজ মায়ের সঙ্গে ব্যভিচারের সমতুল্য (নাউজুবিল্লাহ)।
ইসলামি চিন্তাবিদরা বলেন, সুদ মানব সমাজের জন্য একটি মারাত্মক ব্যাধি। সুদের কারণে সামাজিক বৈষম্য বাড়ে, ধনী আরও ধনী হয় আর গরিব সর্বস্বান্ত হয়।
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে কিশোরগঞ্জে অবৈধ সুদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অভিযান ও নজরদারি প্রয়োজন। পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে।
সচেতন মহলের মতে, সুদমুক্ত সমাজ গড়তে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও ধর্মীয় নেতাদের সম্মিলিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।