
কঠোর মুদ্রানীতিতে প্রবৃদ্ধিমুখী বাজেট বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে: ডিসিসিআই
ঢাকা: বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি মাত্র ৫ শতাংশে নেমে এলেও বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সংগঠনটির মতে, এই সিদ্ধান্ত সদ্য ঘোষিত প্রবৃদ্ধিমুখী জাতীয় বাজেটের বাস্তবায়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং ব্যবসা-বিনিয়োগে গতি ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে দেবে।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, টানা চার বছর ধরে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণ করা হলেও মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশিতভাবে নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বরং চলতি বছরের মে মাসে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।
ডিসিসিআই জানায়, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার সদ্য অনুমোদিত জাতীয় বাজেটে ব্যবসা সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করতে বিভিন্ন কর ও শুল্ক-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তবে মুদ্রানীতিতে সেই প্রবৃদ্ধিমুখী দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন দেখা যায়নি। ফলে রাজস্বনীতি ও মুদ্রানীতির মধ্যে একটি সুস্পষ্ট অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে। উচ্চ নীতি সুদহার বহাল থাকায় ঋণের ব্যয়ও কমছে না, যা নতুন বিনিয়োগের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে গতি ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিলকে স্বাগত জানিয়েছে ডিসিসিআই। তবে অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে এই তহবিলের স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত সিএমএসএমই, রপ্তানিমুখী শিল্প এবং উৎপাদনমুখী উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে, কম ডকুমেন্টেশন ও দ্রুত প্রক্রিয়ায় এ তহবিলের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প-কারখানা পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি ধ্বংসের ঝুঁকিতে থাকা শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন। এজন্য প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের কাছে দ্রুত প্রণোদনার অর্থ পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার।
সংগঠনটি সরকারি খাতে ব্যাংকঋণের ক্রমবর্ধমান নির্ভরশীলতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, সরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি প্রায় ২৬ শতাংশে পৌঁছানোয় ব্যাংক খাতের সীমিত তারল্যের বড় অংশ সরকার ব্যবহার করছে। এতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ আরও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অথচ চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ।
ডিসিসিআইর মতে, জাতীয় বাজটে ঘোষিত কর ও রাজস্ব সুবিধার সুফল পেতে হলে উদ্যোক্তাদের জন্য সাশ্রয়ী অর্থায়নের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় এবং নীতিগত সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ এই সংগঠন।