ইলেকট্রিশিয়ানের চাকরির আশ্বাসে রাশিয়া গিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে মামুন, ড্রোন হামলায় মৃত্যুর খবর

প্রতিনিধির নাম:
  • আপলোডের সময় : Friday, September 11, 2026,
ইলেকট্রিশিয়ানের চাকরির আশ্বাসে রাশিয়া গিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে মামুন, ড্রোন হামলায় মৃত্যুর খবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন

আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।
ইলেকট্রিশিয়ানের চাকরির আশ্বাসে রাশিয়া গিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে মামুন, ড্রোন হামলায় মৃত্যুর খবর

ইলেকট্রিশিয়ানের চাকরির আশ্বাসে রাশিয়া গিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে মামুন, ড্রোন হামলায় মৃত্যুর খবর

নিজস্ব প্রতিবেদক
ময়মনসিংহ

দেশে প্লাম্বিং ও ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ করতেন আল মামুন। তবে মা-বাবা, স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছিল তাকে। পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরানো এবং সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্নে বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ইলেকট্রিশিয়ানের চাকরিতে মাসে দেড় লাখ টাকা বেতনের আশ্বাসে প্রায় সাড়ে আট লাখ টাকা খরচ করে রাশিয়ায় পাড়ি জমান মামুন।

পরিবারের অভিযোগ, রাশিয়ায় যাওয়ার পর প্রতিশ্রুত চাকরি না দিয়ে তাকে রুশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে চুক্তিতে সই করিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। ইউক্রেন সীমান্তে ড্রোন হামলায় মামুনের মৃত্যুর খবর পেয়েছে তার পরিবার। তবে তার মৃত্যুর সঠিক সময়, স্থান কিংবা মরদেহের অবস্থান সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পরিবারের কাছে নেই।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন

আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।

নিহত আল মামুন ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নের খারুয়া গ্রামের মৃত আবুল কাশেম ও রোকেয়া খাতুন দম্পতির একমাত্র ছেলে। স্ত্রী মহিমা আক্তার, এক ছেলে ও পাঁচ মাস বয়সী এক মেয়েকে রেখে গত ৭ মে রাশিয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়েন তিনি।

মামুনকে বিদেশে পাঠাতে পরিবারের প্রায় সাড়ে আট লাখ টাকা খরচ হয়। এর মধ্যে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নেওয়া হয়। ধানের ওপর প্রায় চার লাখ টাকা দাদন নেওয়া হয়। বাকি টাকা আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধার এবং গরু বিক্রি করে সংগ্রহ করা হয়।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন

আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।

পরিবারের আশা ছিল, মামুন বিদেশে গিয়ে ভালো আয় করলে ধীরে ধীরে এসব ঋণ পরিশোধ করবেন। কিন্তু তার মৃত্যুর খবরে এখন পরিবারে নেমে এসেছে অনিশ্চয়তা। একমাত্র ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়ে অভাব ঘোচানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন মা রোকেয়া খাতুন। এখন সেই ছেলেকে হারিয়ে ঋণের বোঝা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পরিবারটি।

মামুনের স্ত্রী মহিমা আক্তার জানান, তার স্বামী ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ করার উদ্দেশ্যেই রাশিয়ায় গিয়েছিলেন। যুদ্ধ করার জন্য তিনি বিদেশে যাননি। রাশিয়ায় যাওয়ার পর নিয়মিত যোগাযোগ না হলেও মোবাইলে অডিও বার্তা ও ছবি পাঠিয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন মামুন। গত ১৯ আগস্ট তিনি সর্বশেষ একটি অডিও বার্তা পাঠান। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

মহিমা বলেন, তার স্বামী শেষ দিকের বার্তাগুলোতে যুদ্ধক্ষেত্র নিয়ে ভয় ও শঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, তার মাথার ওপর দিয়ে ড্রোন ঘুরছে এবং কখন কী ঘটে বলা যায় না। সন্তানদের দেখে রাখার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।

ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে বিয়ে, ভবিষ্যতে যেন এমন না হয়: এমপি সরোয়ার আলমগীর ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে বিয়ে, ভবিষ্যতে যেন এমন না হয়: এমপি সরোয়ার আলমগীর

মহিমা বলেন, “আমার দুইটা সন্তান। ওদের দেখার মতো আর কেউ নাই। স্বামীই একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। এখন আমি কীভাবে সংসার চালাব, বুঝতে পারছি না।”

মামুনকে রাশিয়ায় পাঠানোর প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন তার খালা-শাশুড়ি মোসাম্মৎ কোবিলা আক্তার। তিনি জানান, প্রায় দুই বছর আগে মামুনকে রাশিয়ায় পাঠানোর জন্য কাগজপত্র দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর ‘জাবাল-এ নূর’ নামের একটি এজেন্সির মাধ্যমে তার ভিসা হয়। এরপর ৭ মে তিনি রাশিয়ায় যান।

কোবিলা আক্তারের অভিযোগ, ‘জাবাল-এ নূর’ এজেন্সির মাধ্যমে ভালো বেতন ও চাকরির আশ্বাস দিয়ে মামুনসহ প্রায় ৩০ বাংলাদেশিকে রাশিয়ায় নেওয়া হয়। প্রত্যেককে মাসে দেড় লাখ টাকা বেতন দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চাকরি ও বেতন না দিয়ে তাদের অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাদের রুশ সেনাবাহিনীতে যুক্ত করে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, বিদেশে পাঠানোর আগে এজেন্সির পক্ষ থেকে যে প্রতিশ্রুতি ও আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে তার সঙ্গে মিল পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের তদন্তের আওতায় এনে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

একই সঙ্গে যুদ্ধক্ষেত্রে আটকে থাকা বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সরকারি সহায়তা দেওয়ার দাবি জানান কোবিলা আক্তার।

নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাত বলেন, মামুনের মৃত্যুর বিষয়টি তার পরিবার মৌখিকভাবে উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছে। বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রক্রিয়াধীন করতে পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত আবেদন দিতে বলা হয়েছে।

তিনি জানান, লিখিত আবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রবাসী কল্যাণ শাখার মাধ্যমে বিষয়টি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে জানানো হবে।

ইউএনও বলেন, মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার পর মামুনের পরিবার সরকারি কোনো সহায়তা বা প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার যোগ্য কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

শেয়ার করুন:

লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?

মন্তব্য করতে সাইন-আপ বা লগইনের প্রয়োজন নেই - সরাসরি আপনার মতামত লিখুন।

একটি মন্তব্য লিখুন

আমার সকাল ২৪  ই – পেপার

এ সংক্রান্ত