
ইরানে ভয়াবহ হামলার পরও আলোচনা চলছে, বলছে যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে টানা কয়েকদিনের পাল্টাপাল্টি হামলার পরও উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি পারমাণবিক ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা এখনও চলছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের উদ্যোগে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা চলার মধ্যে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নতুন করে কোনো হামলা চালায়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাতার, পাকিস্তানসহ কয়েকটি আঞ্চলিক দেশের মধ্যস্থতাকারীরা ওয়াশিংটন ও তেহরানের সঙ্গে একাধিক দফায় যোগাযোগ করেছেন। তাদের লক্ষ্য উভয় পক্ষকে পুনরায় আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা এবং উত্তেজনা কমানো।
মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রথম ধাপে সংঘাত কমানোর বিষয়ে উভয় পক্ষের সম্মতি আদায়ের চেষ্টা চলছে। এরপর কারিগরি পর্যায়ের পরবর্তী বৈঠকের তারিখ নির্ধারণে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করা হবে।
এদিকে, হোয়াইট হাউস থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক কিম্বারলি হ্যালকেট জানিয়েছেন, সংঘাত চললেও যুক্তরাষ্ট্র এখনও কূটনৈতিক সমাধানের পথ থেকে সরে আসেনি। তবে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বুধবার আঙ্কারায় সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সংঘাতের অবসানের পাশাপাশি ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত রাখা এবং হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং কারিগরি আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না।
উল্লেখ্য, বুধবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালায়। এর জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কুয়েত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এই পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেও কূটনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।