
আর্জেন্টিনার ম্যাচের আগে সুইজারল্যান্ডে বড় ধাক্কা, খেলছেন না মানজাম্বি
উপশিরোনাম:
হাঁটুর চোটে ছিটকে গেলেন দলের অন্যতম সেরা পারফর্মার; মেসিকে থামাতে দলগত পরিকল্পনায় আস্থা সুইসদের
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার আগে বড় দুঃসংবাদ পেয়েছে সুইজারল্যান্ড। হাঁটুর চোটের কারণে দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ইয়োহান মানজাম্বি গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে খেলতে পারবেন না বলে নিশ্চিত করেছেন প্রধান কোচ মুরাত ইয়াকিন।
স্থানীয় সময় শনিবার (১১ জুলাই) কানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড কোয়ার্টার ফাইনাল। ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনে ইয়াকিন জানান, মানজাম্বিকে মাঠে ফেরাতে চিকিৎসক দল সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও তিনি খেলার মতো ফিট হয়ে উঠতে পারেননি।
কোচ ইয়াকিন বলেন, “তাকে মাঠে ফেরানোর জন্য আমরা সবকিছু করার চেষ্টা করেছি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আগামীকাল খেলার মতো অবস্থায় নেই।”
চলতি বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের আক্রমণভাগে দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন মানজাম্বি। এখন পর্যন্ত তিনটি গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করে দলের অন্যতম ভরসায় পরিণত হয়েছেন তিনি। তবে শেষ ষোলোতে কলম্বিয়ার বিপক্ষেও একই চোটের কারণে মাঠে নামতে পারেননি।
মানজাম্বির অনুপস্থিতিকে বড় ক্ষতি হিসেবে উল্লেখ করে ইয়াকিন বলেন, “জোহান অনেক ব্যথার মধ্যে আছে। বিষয়টি আমাদের সবার জন্যই ধাক্কা। সে দারুণ ছন্দে ছিল এবং মাঠে সবসময় আনন্দ নিয়ে ফুটবল খেলত।”
অন্যদিকে, ৭২ বছর পর বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা সুইজারল্যান্ডের অধিনায়ক গ্রানিত জাকা জানিয়েছেন, আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে নিয়ে তারা অতিরিক্ত ভাবছেন না।
সম্প্রতি জার্মানির সাবেক গোলরক্ষক ইয়েন্স লেমান মন্তব্য করেছিলেন, সুইস খেলোয়াড়রা নাকি মেসিকে অতিরিক্ত সম্মান দেখাচ্ছেন। তবে সেই মন্তব্য উড়িয়ে দিয়ে জাকা বলেন, “মানুষ আমাদের নিয়ে কী বলছে, সেটা আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। আমরা মাঠে নিজেদের পারফরম্যান্স দিয়েই জবাব দিতে চাই।”
মেসিকে ঠেকানোর পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেছেন কোচ ইয়াকিন। তার মতে, আর্জেন্টিনার অধিনায়ককে বল থেকে যতটা সম্ভব দূরে রাখাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি বলেন, “বল যখন আমাদের দখলে থাকবে, তখন মেসি খুব বেশি কিছু করতে পারবে না। আমরা নিজেদের স্বাভাবিক খেলা খেলতে চাই এবং তাকে বল পাওয়ার সুযোগ কমিয়ে দিতে চাই।”
ইয়াকিন আরও জানান, তার দল বিভিন্ন কৌশল নিয়ে প্রস্তুতি নিয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের হাতে একাধিক পরিকল্পনা রয়েছে। একটি দল হিসেবে খেলব, ভালো পাসিং করব এবং বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করব।”
৩৩ বছর বয়সী গ্রানিত জাকার কাছে ম্যাচটি ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় উপলক্ষ। তিনি বলেন, “৭২ বছর পর সুইজারল্যান্ডের হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা গর্বের বিষয়। তবে শুধু এখানে আসাই আমাদের লক্ষ্য নয়, আমরা সেমিফাইনালে উঠতে চাই।”
২০১৪ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনার কাছে ১-০ গোলে হেরেছিল সুইজারল্যান্ড। তবে এবার সেই ম্যাচের প্রতিশোধ নয়, বরং নতুন ইতিহাস গড়ার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে তারা।
কানসাস সিটির গরম আবহাওয়া নিয়েও কোনো অজুহাত দিতে রাজি নন জাকা। তার ভাষায়, “কোয়ার্টার ফাইনালে এসে আবহাওয়া নিয়ে ভাবার সুযোগ নেই। এখানে কোনো অজুহাত চলবে না।”
মানজাম্বির অনুপস্থিতি সুইজারল্যান্ডের জন্য নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা। তবুও দলগত পারফরম্যান্সের ওপর আস্থা রেখে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে কঠিন চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত ইয়াকিনের শিষ্যরা।